ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

টি-টোয়েন্টিতে শুভ সূচনা বাংলাদেশের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্পোর্টস ডেস্ক :

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি শুভ সূচনা করলো বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে ১৫৬ রানে আটকে দেওয়ার পর নাজমুল হোসেন শান্তর ঝড়ো ইনিংসে জয়ের ভিত গড়ে তারা। এরপর সাকিব আল হাসানের ব্যাটে ১২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় পায় স্বাগতিকরা। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে এই জয় অবিস্মরণীয় করে রাখলো বাংলাদেশ। ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করে তারা।

১৮তম ওভারের শেষ বলে ক্রিস জর্ডানকে চার মেরে দলকে জেতান সাকিব। ২৪ বলে ৬ চারে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অন্য প্রান্তে আফিফ অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে।

রনি তালুকদারের ছোটখাটো ঝড়ে দারুণ শুরু হয় বাংলাদেশের। যদিও তিনি ও আরেক ওপেনার লিটন দাস বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শান্ত প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ আউট হয়েছিলেন, রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। ফিরে পাওয়া জীবনকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নেন তিনি। ২৭ বলে করেন হাফ সেঞ্চুরি। এরপর ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবে দলকে নিরাপদ স্থানে রাখেন। সাকিবের ব্যাটে পা হড়কায়নি বাংলাদেশ। জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক।

নাজমুল হোসেন শান্ত ও তৌহিদ হৃদয় দ্রুত ফিরে গেলেও তাদের ঝড়ো জুটিতে বাংলাদেশের ওপর চাপ কম পড়েছিল। সাকিব আল হাসান ও আফিফ হোসেন স্নায়ু ধরে রেখে দলকে টেনে তুলছেন। ৪ উইকেটে ১৩৮ রান করেছে বাংলাদেশ।

১৫৭ রানের টার্গেটে নেমে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে রেখে ফিরে গেলেন তৌহিদ হৃদয়। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৩৯ বলে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও দুটি চার। ১৭ বলে ২৪ রান করেন হৃদয়। ১০৮ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ে বাংলাদেশের। পরের ওভারে মার্ক উডের কাছে বোল্ড হন শান্ত। ৩০ বলে ৮ চারে ৫১ রান করেন তিনি।

৬১ বল খেলে বাংলাদেশের স্কোর একশ হলো। নাজমুল হোসেন শান্ত ১১তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন। তাতে বাংলাদেশ করে ২ উইকেটে ১০০ রান। পরের ওভারের প্রথম বলে হাফ সেঞ্চুরি উদযাপন করেন শান্ত। ২৭ বলে ৮ চারে তৃতীয় ফিফটি মারলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দুই ওয়ানডেতেও হাফ সেঞ্চুরি করেন এই ব্যাটসম্যান।

পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান করেছিল বাংলাাদেশ। ২ উইকেট হারায় তারা। নিঃসন্দেহে ভালো সংগ্রহ। স্কোরবোর্ড আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সপ্তম ওভারে মার্ক উডকে প্রথম চার বলে চারটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। তাতে ৭ ওভারে স্কোর ২ উইকেটে ৭১ রান। পরের দুই ওভারে বল বুঝে আরও দুটি চার হাঁকান শান্ত।

দুই ওপেনারকেই পাওয়ার প্লের মধ্যে হারালো বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারে রনি তালুকদারকে ফেরান আদিল রশিদ। তাকে অনুসরণ করেন লিটন দাস পরের ওভারেই। জোফরা আর্চারের বল পুল করে মিড অনে ক্রিস ওকসকে সহজ ক্যাচ দেন তিনি। ১০ বলে ২ চারে ১২ রান করেন লিটন।

৮ বছর পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনে দারুণ খেলছিলেন রনি তালুকদার। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। আদিল রশিদের গুগলিতে ভেঙে যায় তার স্টাম্প। ১৪ বলে চার চারে ২১ রানে থামেন রনি। দুই বল পর নাজমুল হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে ইংলিশ স্পিনার এলবিডব্লিউর আবেদন জানালে আম্পায়ার আউট দেন। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান শান্ত। আল্ট্রাএজে বল তার ব্যাট স্পর্শ করতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৫৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ইংল্যান্ড। চট্টগ্রামে দুই ওপেনারে যেভাবে শুরুটা হয়েছিল, তাতে বড় স্কোরই প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। তবে যে লক্ষ্যে শুরুতে বোলিং নেওয়া। তাতে বলা যায় সফল হয়েছে স্বাগতিক দল। একটা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের রানার চাকা বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ১৭তম ওভারের আগ পর্যন্ত ঝড়ো গতিতে রান তুলছিলেন অধিনায়ক জস বাটলার। ৪২ বলে ৬৭ রান করা বাটলারের ঝড় থামিয়েছেন হাসান মাহমুদ। তার আউট হতেই ঝড় থেমে যায় ইংলিশদের। পরবর্তী চার ওভারে রান চেক দেওয়ার পাশাপাশি মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদরা দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ায় সেভাবে রান তুলতে পারেনি সফরকারী দল।

২৬ রানে দুটি উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। একটি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান।

শেষে দিকে পর্যাপ্ত রান তুলতে না পারায় ১৯তম ওভারেই পতন হয়েছে পঞ্চম উইকেটের। শেষ ওভারে ক্রিস ওকসও কিছু করতে পারেননি। স্লোয়ারে বিভ্রান্ত করে ‍ওকসকে ১ রানে ফিরিয়ে রানের চাকা বেঁধে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন তাসকিন।

বাটলার ঝড় থামানোর পর রানের গতিও কমে আসে ইংল্যান্ডের। বলা যায় শেষ দিকে রানের রাশ বেশ ভালো মতোই টেনে ধরে রাখতে পারে হাসান-মোস্তাফিজরা। তাতে উইকেট তুলে নেওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। ১৯তম ওভারে হাসান মাহমুদের বলে আগ্রাসী হতে গিয়ে ক্যাচ তুলে আউট হয়েছেন স্যাম কারান। ১১ বলে ৬ রানে ফিরেছেন তিনি। তাতে ছিল না কোনও বাউন্ডারি।

ডাকেটকে বোল্ড করার পরের ওভারে আউট হয়েছেন জস বাটলারও। শুরুতে থেকে ইংলিশ অধিনায়কের ব্যাটে চড়েই সফরকারীরা রানের চাকা সচল রাখতে পেরেছিল। ঝড়ো ফিফটি তুলে নেওয়া এই ব্যাটারকে ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই নাজমুলের ক্যাচে পরিণত করেছেন হাসান মাহমুদ। তাতে ৪২ বলে ৬৭ রানে থেমেছে বাটলারের ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছয়।

৮৮ রানে দ্রুত সময়ে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ায় কিছুটা ছন্দপতন হয়েছিল ইংলিশদের ইনিংসে। সেই ধাক্কা ভালো করেই সামাল দিয়েছেন বেন ডাকেট-জস বাটলার জুটি। ৪৭ রান যোগ করেন তারা। বেশি কৌশলে খেলতে থাকা ডাকেটকে থিতু হতে দেননি মোস্তাফিজুর। ১৬তম ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে তাকে বোল্ড করেছেন। ডাকেট ১৩ বলে করেছেন ২০ রান। তাতে ছিল ৩টি চার।

সাকিবের হাতে ১৯ রানে জীবন পেয়েছিলেন বাটলার। পরে তা দুর্দান্তভাবে কাজেও লাগিয়েছেন। হাসান মাহমুদের বলে ছক্কা মেরে পূরণ করেছেন ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি। বাটলার ফিফটি করেছেন ৩২ বলে।

৮০ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙার পরই ছন্দ পতন হয় ইংল্যান্ডের। মারকুটে ব্যাটার ডেভিড মালানকে হাত খুলতে দেননি সাকিব। ১২তম ওভারে উঠিয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে শান্তর ক্যাচে পরিণত হয়েছেন তিনি। মালান ৭ বল খেললেও ৪ রান করতে পেরেছেন।

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে ঝড়ো গতিতে রান তুলছিলেন ফিল সল্ট-বাটলার। জীবনও পেয়েছিলেন তারা। দশম ওভারে সল্টকে গ্লাভসবন্দি করে ৮০ রানের জুটি ভেঙেছেন নাসুম। অবশ্য আম্পায়ার শুরুতে আউট দিলে সল্ট রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু সাফল্য আসেনি তাতে। রিপ্লেতে দেখা গেছে, বল ব্যাটে লেগে লিটনের গ্লাভসে জমা পড়েছে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সল্ট ৩৫ বলে ৩৮ রানে ফিরেছেন। তাতে ছিল ৪টি চার ও ১টি ছয়।

টস হেরে ব্যাট করতে নামলেও শুরুটা আগ্রাসী ভঙ্গিতে করেছে ইংল্যান্ড। দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলার চাহিদা বুঝে পাওয়ার প্লেতে রান তুলেছেন। ৬ ওভারে যোগ করেছেন ৫১ রান।

ইংল্যান্ডের ঝড়ো গতিতে রান তোলার বিপরীতে পঞ্চম ওভারে দুটি আউটের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে। নিজের করা প্রথম বলে সল্টের ফিরতি ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি নাসুম। পঞ্চম বলে বাটলার বল উঠিয়ে দিলে মিড অনে সেটি ফেলে দিয়েছেন সাকিব।

পয়মন্ত ভেন্যু চট্টগ্রামে শেষ ওয়ানডে জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই মাঠে আজ শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম ম্যাচে টস জিতলেও ইংল্যান্ডকে শুরুতে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে।

বিপিএলের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন নতুন ক্রিকেটার আসায় চমক অপেক্ষা করছিল।প্রথম ম্যাচে অভিষেক হচ্ছে টপ অর্ডার ব্যাটার তৌহিদ হৃদয়ের। ৮ বছর পর ফেরা রনি তালুকদারেরও একাদশে জায়গা হয়েছে।

বাংলাদেশ একাদশ: রনি তালুকদার, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তৌহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, শামিম হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাসুম আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

ইংল্যান্ড একাদশ: ফিল সল্ট, জস বাটলার (অধিনায়ক), ডেভিড মালান, বেন ডাকেট, মঈন আলী, স্যাম কারান, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডান, আদিল রশিদ, জোফরা আর্চার ও মার্ক উড।

এম.নাসির/৯

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

টি-টোয়েন্টিতে শুভ সূচনা বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ১২:৩২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

স্পোর্টস ডেস্ক :

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি শুভ সূচনা করলো বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে ১৫৬ রানে আটকে দেওয়ার পর নাজমুল হোসেন শান্তর ঝড়ো ইনিংসে জয়ের ভিত গড়ে তারা। এরপর সাকিব আল হাসানের ব্যাটে ১২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় পায় স্বাগতিকরা। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে এই জয় অবিস্মরণীয় করে রাখলো বাংলাদেশ। ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করে তারা।

১৮তম ওভারের শেষ বলে ক্রিস জর্ডানকে চার মেরে দলকে জেতান সাকিব। ২৪ বলে ৬ চারে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অন্য প্রান্তে আফিফ অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে।

রনি তালুকদারের ছোটখাটো ঝড়ে দারুণ শুরু হয় বাংলাদেশের। যদিও তিনি ও আরেক ওপেনার লিটন দাস বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শান্ত প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ আউট হয়েছিলেন, রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। ফিরে পাওয়া জীবনকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নেন তিনি। ২৭ বলে করেন হাফ সেঞ্চুরি। এরপর ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবে দলকে নিরাপদ স্থানে রাখেন। সাকিবের ব্যাটে পা হড়কায়নি বাংলাদেশ। জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক।

নাজমুল হোসেন শান্ত ও তৌহিদ হৃদয় দ্রুত ফিরে গেলেও তাদের ঝড়ো জুটিতে বাংলাদেশের ওপর চাপ কম পড়েছিল। সাকিব আল হাসান ও আফিফ হোসেন স্নায়ু ধরে রেখে দলকে টেনে তুলছেন। ৪ উইকেটে ১৩৮ রান করেছে বাংলাদেশ।

১৫৭ রানের টার্গেটে নেমে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে রেখে ফিরে গেলেন তৌহিদ হৃদয়। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৩৯ বলে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও দুটি চার। ১৭ বলে ২৪ রান করেন হৃদয়। ১০৮ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ে বাংলাদেশের। পরের ওভারে মার্ক উডের কাছে বোল্ড হন শান্ত। ৩০ বলে ৮ চারে ৫১ রান করেন তিনি।

৬১ বল খেলে বাংলাদেশের স্কোর একশ হলো। নাজমুল হোসেন শান্ত ১১তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন। তাতে বাংলাদেশ করে ২ উইকেটে ১০০ রান। পরের ওভারের প্রথম বলে হাফ সেঞ্চুরি উদযাপন করেন শান্ত। ২৭ বলে ৮ চারে তৃতীয় ফিফটি মারলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দুই ওয়ানডেতেও হাফ সেঞ্চুরি করেন এই ব্যাটসম্যান।

পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান করেছিল বাংলাাদেশ। ২ উইকেট হারায় তারা। নিঃসন্দেহে ভালো সংগ্রহ। স্কোরবোর্ড আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সপ্তম ওভারে মার্ক উডকে প্রথম চার বলে চারটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। তাতে ৭ ওভারে স্কোর ২ উইকেটে ৭১ রান। পরের দুই ওভারে বল বুঝে আরও দুটি চার হাঁকান শান্ত।

দুই ওপেনারকেই পাওয়ার প্লের মধ্যে হারালো বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারে রনি তালুকদারকে ফেরান আদিল রশিদ। তাকে অনুসরণ করেন লিটন দাস পরের ওভারেই। জোফরা আর্চারের বল পুল করে মিড অনে ক্রিস ওকসকে সহজ ক্যাচ দেন তিনি। ১০ বলে ২ চারে ১২ রান করেন লিটন।

৮ বছর পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনে দারুণ খেলছিলেন রনি তালুকদার। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। আদিল রশিদের গুগলিতে ভেঙে যায় তার স্টাম্প। ১৪ বলে চার চারে ২১ রানে থামেন রনি। দুই বল পর নাজমুল হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে ইংলিশ স্পিনার এলবিডব্লিউর আবেদন জানালে আম্পায়ার আউট দেন। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান শান্ত। আল্ট্রাএজে বল তার ব্যাট স্পর্শ করতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৫৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ইংল্যান্ড। চট্টগ্রামে দুই ওপেনারে যেভাবে শুরুটা হয়েছিল, তাতে বড় স্কোরই প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। তবে যে লক্ষ্যে শুরুতে বোলিং নেওয়া। তাতে বলা যায় সফল হয়েছে স্বাগতিক দল। একটা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের রানার চাকা বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ১৭তম ওভারের আগ পর্যন্ত ঝড়ো গতিতে রান তুলছিলেন অধিনায়ক জস বাটলার। ৪২ বলে ৬৭ রান করা বাটলারের ঝড় থামিয়েছেন হাসান মাহমুদ। তার আউট হতেই ঝড় থেমে যায় ইংলিশদের। পরবর্তী চার ওভারে রান চেক দেওয়ার পাশাপাশি মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদরা দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ায় সেভাবে রান তুলতে পারেনি সফরকারী দল।

২৬ রানে দুটি উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। একটি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান।

শেষে দিকে পর্যাপ্ত রান তুলতে না পারায় ১৯তম ওভারেই পতন হয়েছে পঞ্চম উইকেটের। শেষ ওভারে ক্রিস ওকসও কিছু করতে পারেননি। স্লোয়ারে বিভ্রান্ত করে ‍ওকসকে ১ রানে ফিরিয়ে রানের চাকা বেঁধে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন তাসকিন।

বাটলার ঝড় থামানোর পর রানের গতিও কমে আসে ইংল্যান্ডের। বলা যায় শেষ দিকে রানের রাশ বেশ ভালো মতোই টেনে ধরে রাখতে পারে হাসান-মোস্তাফিজরা। তাতে উইকেট তুলে নেওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। ১৯তম ওভারে হাসান মাহমুদের বলে আগ্রাসী হতে গিয়ে ক্যাচ তুলে আউট হয়েছেন স্যাম কারান। ১১ বলে ৬ রানে ফিরেছেন তিনি। তাতে ছিল না কোনও বাউন্ডারি।

ডাকেটকে বোল্ড করার পরের ওভারে আউট হয়েছেন জস বাটলারও। শুরুতে থেকে ইংলিশ অধিনায়কের ব্যাটে চড়েই সফরকারীরা রানের চাকা সচল রাখতে পেরেছিল। ঝড়ো ফিফটি তুলে নেওয়া এই ব্যাটারকে ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই নাজমুলের ক্যাচে পরিণত করেছেন হাসান মাহমুদ। তাতে ৪২ বলে ৬৭ রানে থেমেছে বাটলারের ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছয়।

৮৮ রানে দ্রুত সময়ে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ায় কিছুটা ছন্দপতন হয়েছিল ইংলিশদের ইনিংসে। সেই ধাক্কা ভালো করেই সামাল দিয়েছেন বেন ডাকেট-জস বাটলার জুটি। ৪৭ রান যোগ করেন তারা। বেশি কৌশলে খেলতে থাকা ডাকেটকে থিতু হতে দেননি মোস্তাফিজুর। ১৬তম ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে তাকে বোল্ড করেছেন। ডাকেট ১৩ বলে করেছেন ২০ রান। তাতে ছিল ৩টি চার।

সাকিবের হাতে ১৯ রানে জীবন পেয়েছিলেন বাটলার। পরে তা দুর্দান্তভাবে কাজেও লাগিয়েছেন। হাসান মাহমুদের বলে ছক্কা মেরে পূরণ করেছেন ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি। বাটলার ফিফটি করেছেন ৩২ বলে।

৮০ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙার পরই ছন্দ পতন হয় ইংল্যান্ডের। মারকুটে ব্যাটার ডেভিড মালানকে হাত খুলতে দেননি সাকিব। ১২তম ওভারে উঠিয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে শান্তর ক্যাচে পরিণত হয়েছেন তিনি। মালান ৭ বল খেললেও ৪ রান করতে পেরেছেন।

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে ঝড়ো গতিতে রান তুলছিলেন ফিল সল্ট-বাটলার। জীবনও পেয়েছিলেন তারা। দশম ওভারে সল্টকে গ্লাভসবন্দি করে ৮০ রানের জুটি ভেঙেছেন নাসুম। অবশ্য আম্পায়ার শুরুতে আউট দিলে সল্ট রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু সাফল্য আসেনি তাতে। রিপ্লেতে দেখা গেছে, বল ব্যাটে লেগে লিটনের গ্লাভসে জমা পড়েছে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সল্ট ৩৫ বলে ৩৮ রানে ফিরেছেন। তাতে ছিল ৪টি চার ও ১টি ছয়।

টস হেরে ব্যাট করতে নামলেও শুরুটা আগ্রাসী ভঙ্গিতে করেছে ইংল্যান্ড। দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলার চাহিদা বুঝে পাওয়ার প্লেতে রান তুলেছেন। ৬ ওভারে যোগ করেছেন ৫১ রান।

ইংল্যান্ডের ঝড়ো গতিতে রান তোলার বিপরীতে পঞ্চম ওভারে দুটি আউটের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে। নিজের করা প্রথম বলে সল্টের ফিরতি ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি নাসুম। পঞ্চম বলে বাটলার বল উঠিয়ে দিলে মিড অনে সেটি ফেলে দিয়েছেন সাকিব।

পয়মন্ত ভেন্যু চট্টগ্রামে শেষ ওয়ানডে জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই মাঠে আজ শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম ম্যাচে টস জিতলেও ইংল্যান্ডকে শুরুতে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে।

বিপিএলের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন নতুন ক্রিকেটার আসায় চমক অপেক্ষা করছিল।প্রথম ম্যাচে অভিষেক হচ্ছে টপ অর্ডার ব্যাটার তৌহিদ হৃদয়ের। ৮ বছর পর ফেরা রনি তালুকদারেরও একাদশে জায়গা হয়েছে।

বাংলাদেশ একাদশ: রনি তালুকদার, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তৌহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, শামিম হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাসুম আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

ইংল্যান্ড একাদশ: ফিল সল্ট, জস বাটলার (অধিনায়ক), ডেভিড মালান, বেন ডাকেট, মঈন আলী, স্যাম কারান, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডান, আদিল রশিদ, জোফরা আর্চার ও মার্ক উড।

এম.নাসির/৯