ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিন এখন বাংলাদেশে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ মার্চ ২০২৩ ১২৬ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিনের যাত্রা শুরু উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

 

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এসিআই লিমিটেড বাংলাদেশে নিয়ে এল বিশ্ববিখ্যাত মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিন। গত শুক্রবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বাংলাদেশে মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিনের যাত্রা শুরু উপলক্ষে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত কিমিনোরি ইয়ামা। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। জাপান স্বাধীনতার পর থেকেই নানাভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নৌপরিবহন একটি অন্যতম প্রধান যোগাযোগব্যবস্থা। মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিন মাঝারি ও ছোট নৌপরিবহনে ব্যবহার করা যাবে। মেরিন ইঞ্জিনগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম উপাদান হয়ে উঠবে। যে ইঞ্জিনগুলো বাজারজাত করবে এসিআই লিমিটেড।’

এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা বলেন, ‘টেকনোলজির দিক থেকে জাপান খুবই উন্নত দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য জাপানিজ প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। এই বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেই জাপানিজ প্রযুক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করবে এসিআই। আমাদের লক্ষ্য দেশের মধ্যে ও অর্থনৈতিক খাতে ভালো একটা অবস্থান তৈরি করা।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নদীমাতৃক বাংলাদেশে ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। এই  নৌপথ শুধু মালবাহী ও যাত্রীদের অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্যই নয়; চট্টগ্রাম, পায়রা এবং মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি, রপ্তানি ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে চলমান রয়েছে। আইটিএলওএস ট্রাইব্যুনাল থেকে সামুদ্রিক এলাকায় ২০০ নটিক্যাল মাইল প্রবেশাধিকার পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনার সুযোগ পেয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ হওয়ায় এটি বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক কার্যকলাপের অবারিত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে সরকার বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সামুদ্রিক খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে ঘোষণার মতো বিভিন্ন কৌশলও গ্রহণ করেছে।

এসব বিবেচনায় রেখে এসিআই ৩৭৮ কিলোওয়াট থেকে ২ হাজার কিলোওয়াট রেঞ্জের মধ্যে মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিন বাজারজাত করবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও সমুদ্রগামী জাহাজ, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জাহাজ, বৈদ্যুতিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প যন্ত্রপাতি, পাম্প স্টেশন ইত্যাদিতে ব্যবহার করা যাবে।

সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা অনুধাবন করে এসিআই মেরিন অ্যান্ড রিভেরাইন টেকনোলজিস লিমিটেড ২০১৯ সালে মেরিন ও রিভেরাইন অপারেশনের মাধ্যমে প্রযুক্তি এবং পরিষেবাগুলোর দায়িত্বশীল প্রয়োগের মাধ্যমে জীবনের মান উন্নত করার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এসিআই বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি পণ্যগুলোর সহযোগিতায় মেরিন  মেশিনারিজ ও সরঞ্জামের ব্যবসার মাধ্যমে সামুদ্রিক ব্যবসা পরিচালনা করছে। এসিআই ভবিষ্যতে ড্রেজিং, পরিবহন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চপ্রযুক্তিগত নেভিগেশনাল সরঞ্জামের ব্যবসার মাধ্যমে তাদরে সামুদ্রিক ব্যবসাকে আরও বিস্তৃত করতে চায়।

এরই ধারাবাহিকতায় এসিআই মেরিন অ্যান্ড রিভেরাইন টেকনোলজিস লিমিটেড মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিন বাজারজাত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ‘মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ’ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপগুলোর মধ্যে স্প্যানিং এনার্জি, লজিস্টিকস ও অবকাঠামো, শিল্প যন্ত্রপাতি, সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি, অ্যারোস্পেস এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

মেরিন ইঞ্জিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (প্রকৌশল) ড. এ কে এম মতিউর রহমান, এসিআই মেরিন অ্যান্ড রিভেরাইন টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী, এসিআই মোটরস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস, মিতসুবিশি হেভি  ইন্ডাস্ট্রিজ ইঞ্জিন অ্যান্ড টার্বোচার্জার  লিমিটেডের পরিচালক ইওশিহিরো কোয়ামা ও মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ইঞ্জিন সিস্টেমের (এশিয়া) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নোরিও মুরাকামী প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিন এখন বাংলাদেশে

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ মার্চ ২০২৩

মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিনের যাত্রা শুরু উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

 

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এসিআই লিমিটেড বাংলাদেশে নিয়ে এল বিশ্ববিখ্যাত মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিন। গত শুক্রবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বাংলাদেশে মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিনের যাত্রা শুরু উপলক্ষে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত কিমিনোরি ইয়ামা। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। জাপান স্বাধীনতার পর থেকেই নানাভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নৌপরিবহন একটি অন্যতম প্রধান যোগাযোগব্যবস্থা। মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিন মাঝারি ও ছোট নৌপরিবহনে ব্যবহার করা যাবে। মেরিন ইঞ্জিনগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম উপাদান হয়ে উঠবে। যে ইঞ্জিনগুলো বাজারজাত করবে এসিআই লিমিটেড।’

এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা বলেন, ‘টেকনোলজির দিক থেকে জাপান খুবই উন্নত দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য জাপানিজ প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। এই বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেই জাপানিজ প্রযুক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করবে এসিআই। আমাদের লক্ষ্য দেশের মধ্যে ও অর্থনৈতিক খাতে ভালো একটা অবস্থান তৈরি করা।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নদীমাতৃক বাংলাদেশে ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। এই  নৌপথ শুধু মালবাহী ও যাত্রীদের অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্যই নয়; চট্টগ্রাম, পায়রা এবং মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি, রপ্তানি ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে চলমান রয়েছে। আইটিএলওএস ট্রাইব্যুনাল থেকে সামুদ্রিক এলাকায় ২০০ নটিক্যাল মাইল প্রবেশাধিকার পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনার সুযোগ পেয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ হওয়ায় এটি বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক কার্যকলাপের অবারিত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে সরকার বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সামুদ্রিক খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে ঘোষণার মতো বিভিন্ন কৌশলও গ্রহণ করেছে।

এসব বিবেচনায় রেখে এসিআই ৩৭৮ কিলোওয়াট থেকে ২ হাজার কিলোওয়াট রেঞ্জের মধ্যে মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিন বাজারজাত করবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও সমুদ্রগামী জাহাজ, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জাহাজ, বৈদ্যুতিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প যন্ত্রপাতি, পাম্প স্টেশন ইত্যাদিতে ব্যবহার করা যাবে।

সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা অনুধাবন করে এসিআই মেরিন অ্যান্ড রিভেরাইন টেকনোলজিস লিমিটেড ২০১৯ সালে মেরিন ও রিভেরাইন অপারেশনের মাধ্যমে প্রযুক্তি এবং পরিষেবাগুলোর দায়িত্বশীল প্রয়োগের মাধ্যমে জীবনের মান উন্নত করার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এসিআই বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি পণ্যগুলোর সহযোগিতায় মেরিন  মেশিনারিজ ও সরঞ্জামের ব্যবসার মাধ্যমে সামুদ্রিক ব্যবসা পরিচালনা করছে। এসিআই ভবিষ্যতে ড্রেজিং, পরিবহন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চপ্রযুক্তিগত নেভিগেশনাল সরঞ্জামের ব্যবসার মাধ্যমে তাদরে সামুদ্রিক ব্যবসাকে আরও বিস্তৃত করতে চায়।

এরই ধারাবাহিকতায় এসিআই মেরিন অ্যান্ড রিভেরাইন টেকনোলজিস লিমিটেড মিতসুবিশি মেরিন ইঞ্জিন বাজারজাত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ‘মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ’ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপগুলোর মধ্যে স্প্যানিং এনার্জি, লজিস্টিকস ও অবকাঠামো, শিল্প যন্ত্রপাতি, সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি, অ্যারোস্পেস এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

মেরিন ইঞ্জিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (প্রকৌশল) ড. এ কে এম মতিউর রহমান, এসিআই মেরিন অ্যান্ড রিভেরাইন টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী, এসিআই মোটরস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস, মিতসুবিশি হেভি  ইন্ডাস্ট্রিজ ইঞ্জিন অ্যান্ড টার্বোচার্জার  লিমিটেডের পরিচালক ইওশিহিরো কোয়ামা ও মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ইঞ্জিন সিস্টেমের (এশিয়া) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নোরিও মুরাকামী প্রমুখ।