ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

রাশিয়ার পক্ষে লড়ছে ফিলিস্তিনি ও সিরীয়রা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়ছে ফিলিস্তিনি ও সিরীয়রা। ফিলিস্তিনিরা প্রত্যেকে মাসিক ভাতা পাচ্ছে সাড়ে তিনশ’ ডলার। অন্যদিকে সিরিয়রা মাসে পাচ্ছে পাঁচশ’ থেকে সাড়ে ছয়শ’ মার্কিন ডলার। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র মার্কিন গণমাধ্যম দ্য মিডিয়া লাইনকে এ তথ্য জানিয়েছে।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী সিডনের পাশেই ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় আশ্রয় শিবির। এই শিবির থেকেই যোদ্ধা সংগ্রহ করছে রাশিয়া। মাস প্রতি ভাতা সাড়ে তিনশো মার্কিন ডলার। যুদ্ধের জন্য নিবন্ধিতরা ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দল ফাতাহ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য।

নিবন্ধিত অধিকাংশের জন্ম ১৯৬৯ সালের পর। যাদের তথ্য বৈরুত সরকারের কাছে নেই। তাদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণের বাইরে। যোদ্ধাদের ভাতা ছাড়াও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে রাশিয়া।

ড্রোন পরিচালনা ও শহুরে যুদ্ধের অভিজ্ঞদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নিবন্ধন কার্যক্রমে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনি দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

বৈরুতের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষাখাত বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক রিয়াদ খাওয়াজি বলেন, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিয়োগের বিষয়টিতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে শরণার্থী শিবিরের পরিস্থিতি বর্ণনা করার মতো নয়, এতোটাই ভয়ানক। তরুণের জন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা নেই।

কতোজন ফিলিস্তিনিকে যুদ্ধের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে সংখ্যা জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় তিনশ’র মতো ফিলিস্তিনিকে রাশিয়ায় প্রশিক্ষণের পর ইউক্রেন পাঠানো হয়েছে।

তাদেরকে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে মোতায়েন করা হয়েছে। শরণার্থী শিবিরে আরো একশ’ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে মোতায়েন করার জন্য।

লন্ডন ও ইস্তাম্বুল ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আবাদ সেন্টার ফর স্ট্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক মুহাম্মদ সারমিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর দুই উপায়ে সিরিয়া থেকে যোদ্ধা নিয়োগ দিচ্ছে রাশিয়া।

প্রথমটি রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের মাধ্যমে। দ্বিতীয়টি সিরিয়ান এলিট ফোর্স থেকে সরাসরি রুশ বাহিনীতে। মাস প্রতি ভাতা ৫০০ থেকে সাড়ে ছয়শো মার্কিন ডলার।

সৈন্য বহর ভারী করা এবং বাশার বাহিনী মস্কোর প্রতি অনুগত তা তুলে ধরার জন্য সিরিয়া থেকে যোদ্ধা নিচ্ছে রাশিয়া।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের অংশ নেয়ার খবর প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিন বলেছে, এ যুদ্ধের সঙ্গে ফিলিস্তিনের কোনো সম্পর্ক নেই। কাউকে যুদ্ধে অংশ নিতে উৎসাহী করেনি।

এম.নাসির/৯

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাশিয়ার পক্ষে লড়ছে ফিলিস্তিনি ও সিরীয়রা

আপডেট সময় : ০৮:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়ছে ফিলিস্তিনি ও সিরীয়রা। ফিলিস্তিনিরা প্রত্যেকে মাসিক ভাতা পাচ্ছে সাড়ে তিনশ’ ডলার। অন্যদিকে সিরিয়রা মাসে পাচ্ছে পাঁচশ’ থেকে সাড়ে ছয়শ’ মার্কিন ডলার। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র মার্কিন গণমাধ্যম দ্য মিডিয়া লাইনকে এ তথ্য জানিয়েছে।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী সিডনের পাশেই ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় আশ্রয় শিবির। এই শিবির থেকেই যোদ্ধা সংগ্রহ করছে রাশিয়া। মাস প্রতি ভাতা সাড়ে তিনশো মার্কিন ডলার। যুদ্ধের জন্য নিবন্ধিতরা ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দল ফাতাহ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য।

নিবন্ধিত অধিকাংশের জন্ম ১৯৬৯ সালের পর। যাদের তথ্য বৈরুত সরকারের কাছে নেই। তাদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণের বাইরে। যোদ্ধাদের ভাতা ছাড়াও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে রাশিয়া।

ড্রোন পরিচালনা ও শহুরে যুদ্ধের অভিজ্ঞদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নিবন্ধন কার্যক্রমে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনি দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

বৈরুতের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষাখাত বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক রিয়াদ খাওয়াজি বলেন, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিয়োগের বিষয়টিতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে শরণার্থী শিবিরের পরিস্থিতি বর্ণনা করার মতো নয়, এতোটাই ভয়ানক। তরুণের জন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা নেই।

কতোজন ফিলিস্তিনিকে যুদ্ধের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে সংখ্যা জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় তিনশ’র মতো ফিলিস্তিনিকে রাশিয়ায় প্রশিক্ষণের পর ইউক্রেন পাঠানো হয়েছে।

তাদেরকে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে মোতায়েন করা হয়েছে। শরণার্থী শিবিরে আরো একশ’ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে মোতায়েন করার জন্য।

লন্ডন ও ইস্তাম্বুল ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আবাদ সেন্টার ফর স্ট্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক মুহাম্মদ সারমিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর দুই উপায়ে সিরিয়া থেকে যোদ্ধা নিয়োগ দিচ্ছে রাশিয়া।

প্রথমটি রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের মাধ্যমে। দ্বিতীয়টি সিরিয়ান এলিট ফোর্স থেকে সরাসরি রুশ বাহিনীতে। মাস প্রতি ভাতা ৫০০ থেকে সাড়ে ছয়শো মার্কিন ডলার।

সৈন্য বহর ভারী করা এবং বাশার বাহিনী মস্কোর প্রতি অনুগত তা তুলে ধরার জন্য সিরিয়া থেকে যোদ্ধা নিচ্ছে রাশিয়া।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের অংশ নেয়ার খবর প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিন বলেছে, এ যুদ্ধের সঙ্গে ফিলিস্তিনের কোনো সম্পর্ক নেই। কাউকে যুদ্ধে অংশ নিতে উৎসাহী করেনি।

এম.নাসির/৯