ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

বঙ্গবন্ধুর সাহসী নেতৃত্বে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায় : শাবান মাহমুদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আলীগড় সংবাদদাতা

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের প্রাচীনতম ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার এ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের মিনিষ্টার (প্রেস) শাবান মাহমুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাবান মাহমুদ বলেন, পৃথিবীতে বাঙালি একমাত্র জাতি যাদের মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহসী নেতৃত্বে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি আমাদের ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাঙালি জাতি বাংলা ভাষার এ গৌরব অর্জন করে।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ড. বি আর আম্বেদকর হলের প্রভোষ্ট অধ্যাপক ড. হাসনাত আলী খান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশরাফ, অধ্যাপক ড.সৈয়দ আলী নেওয়াজ জায়েদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সৈয়দ আদনান জায়েদী ও আলী হোসেন আরমান।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহান মাতৃভাষা দিবসে বিশ্বব্যাপী আজ বাংলার গুরুত্ব বেড়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগের কারণেই বাংলা ভাষা এ মর্যাদা পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

পরে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা দিবসটি উপলক্ষ্যে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উল্লেখ্য ১৮৭৫ সালে ১,১৫৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের উত্তর প্রদেশ অঙ্গরাজ্যের আলিগড় শহরে অবস্থিত। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ব্রিটিশ রাজত্বের সময় ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিতে পরিগণিত হয়। তৎকালীন অনেক স্বনামধন্য মুসলিম চিন্তাবিদ ও উর্দূ ভাষার বিখ্যাত কবি ও লেখক এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয় রাজনীতিক এবং স্বাধীনতা কর্মী রফি আহমেদ কিদোয়াই , বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং কূটনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের পুনর্বাসন কমিশনার চৌধুরী আবদুল হামিদ খান, প্রাক্তন উপাচার্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, রাজনীতিবিদ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সৈনিক ও শিক্ষক নূরেজ্জামান ভুঁইয়া, তেভাগা আন্দলোনের ‘জনক’ হিসাবে খ্যাত হাজী মোহাম্মদ দানেশ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান এবং খ্যাতিমান বাঙালি লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর নাম উল্লেখযোগ্য।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বঙ্গবন্ধুর সাহসী নেতৃত্বে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায় : শাবান মাহমুদ

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩

আলীগড় সংবাদদাতা

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের প্রাচীনতম ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার এ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের মিনিষ্টার (প্রেস) শাবান মাহমুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাবান মাহমুদ বলেন, পৃথিবীতে বাঙালি একমাত্র জাতি যাদের মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহসী নেতৃত্বে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি আমাদের ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাঙালি জাতি বাংলা ভাষার এ গৌরব অর্জন করে।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ড. বি আর আম্বেদকর হলের প্রভোষ্ট অধ্যাপক ড. হাসনাত আলী খান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশরাফ, অধ্যাপক ড.সৈয়দ আলী নেওয়াজ জায়েদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সৈয়দ আদনান জায়েদী ও আলী হোসেন আরমান।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহান মাতৃভাষা দিবসে বিশ্বব্যাপী আজ বাংলার গুরুত্ব বেড়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগের কারণেই বাংলা ভাষা এ মর্যাদা পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

পরে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা দিবসটি উপলক্ষ্যে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উল্লেখ্য ১৮৭৫ সালে ১,১৫৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের উত্তর প্রদেশ অঙ্গরাজ্যের আলিগড় শহরে অবস্থিত। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ব্রিটিশ রাজত্বের সময় ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিতে পরিগণিত হয়। তৎকালীন অনেক স্বনামধন্য মুসলিম চিন্তাবিদ ও উর্দূ ভাষার বিখ্যাত কবি ও লেখক এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয় রাজনীতিক এবং স্বাধীনতা কর্মী রফি আহমেদ কিদোয়াই , বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং কূটনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের পুনর্বাসন কমিশনার চৌধুরী আবদুল হামিদ খান, প্রাক্তন উপাচার্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, রাজনীতিবিদ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সৈনিক ও শিক্ষক নূরেজ্জামান ভুঁইয়া, তেভাগা আন্দলোনের ‘জনক’ হিসাবে খ্যাত হাজী মোহাম্মদ দানেশ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান এবং খ্যাতিমান বাঙালি লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর নাম উল্লেখযোগ্য।