ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

দিল্লিতেও কম্পন অনুভূত

নেপালে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১২৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ নভেম্বর ২০২৩ ১৬৮১ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। এতে ভারত ও চীনেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার কিছু আগে এ ভূমিকম্প হয় বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১২৮ জনে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এছাড়া শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে দিল্লি ও উত্তর ভারতজুড়ে। শুক্রবার গভীর রাতে দিল্লি-এনসিআরের বাসিন্দারা ভয় পেয়েছিলেন। এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে শক্তিশালী কম্পন স্থায়ী হওয়ায় উঁচু-নিচু সোসাইটির বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তায় চলে আসেন।

নেপালে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১২৮

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নেপালে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

নেপালভিত্তিক গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। নেপালের ন্যাশনাল ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রের মতে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল জাজারকোট জেলা।

শনিবার ভোররাত পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যানুসারে, জাজারকোট এবং পশ্চিম রুকুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। জাজারকোট জেলার উপপুলিশ সুপার সন্তোষ রোকা বলেন, শুধু জাজারকোটেই ৪৪ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে নালগড় পৌরসভার ডেপুটি মেয়র সরিতা সিংও রয়েছেন।

জাজারকোটে ৫৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে সুরক্ষেতের কর্নালি প্রদেশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বাকিরা জেলার বিভিন্ন মেডিকেল ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নেপালে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১২৮

পশ্চিম রুকুম জেলার উপপুলিশ সুপার নামরাজ ভট্টরাই জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যে পশ্চিম রুকুমে মৃতের সংখ্যা ৩৬-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে আটবিসকোট পৌরসভায় ৩৬ জনের এবং সানিভেরি গ্রামীণ পৌরসভায় আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম রুকুমে আহতদের সংখ্যা ৮৫ জনে পৌঁছেছে।

খবরে বলা হয়েছে, জাজারকোট জেলার ভেরি, নালগাদ, কুশে, বেরেকোট এবং চেদাগড় ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে। প্রধান জেলা কর্মকর্তা সুরেশ সুনার জানিয়েছেন, জেলার সব নিরাপত্তা বাহিনীকে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজে জড়ো করা হয়েছে।

এর আগে ২২ অক্টোবর ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঠমান্ডু উপত্যকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো কেঁপে ওঠে। তবে ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর ছিল না।

উল্লেখ্য, নেপালে ভূমিকম্প সাধারণ ঘটনা। দেশটি তিব্বতীয় এবং ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটগুলোর মিলনস্থলে অবস্থিত। প্রতি শতাব্দীতে এটি অপরের দুই মিটার কাছাকাছি অবস্থান করে, যার ফলে চাপ সৃষ্টি হয় যা ভূমিকম্প হয়। ২০১৫ সালে নেপালে একটি ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প এবং পরবর্তী ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। নেপাল বিশ্বের ১১তম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ।

আরও পড়ুন:

নেপালের ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৫০ ছাড়াল

সূত্র : এনডিটিভি, কাঠমান্ডু পোস্ট

এএমএন/০৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দিল্লিতেও কম্পন অনুভূত

নেপালে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১২৮

আপডেট সময় : ০২:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ নভেম্বর ২০২৩

নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। এতে ভারত ও চীনেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার কিছু আগে এ ভূমিকম্প হয় বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১২৮ জনে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এছাড়া শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে দিল্লি ও উত্তর ভারতজুড়ে। শুক্রবার গভীর রাতে দিল্লি-এনসিআরের বাসিন্দারা ভয় পেয়েছিলেন। এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে শক্তিশালী কম্পন স্থায়ী হওয়ায় উঁচু-নিচু সোসাইটির বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তায় চলে আসেন।

নেপালে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১২৮

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নেপালে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

নেপালভিত্তিক গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। নেপালের ন্যাশনাল ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রের মতে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল জাজারকোট জেলা।

শনিবার ভোররাত পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যানুসারে, জাজারকোট এবং পশ্চিম রুকুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। জাজারকোট জেলার উপপুলিশ সুপার সন্তোষ রোকা বলেন, শুধু জাজারকোটেই ৪৪ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে নালগড় পৌরসভার ডেপুটি মেয়র সরিতা সিংও রয়েছেন।

জাজারকোটে ৫৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে সুরক্ষেতের কর্নালি প্রদেশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বাকিরা জেলার বিভিন্ন মেডিকেল ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নেপালে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১২৮

পশ্চিম রুকুম জেলার উপপুলিশ সুপার নামরাজ ভট্টরাই জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যে পশ্চিম রুকুমে মৃতের সংখ্যা ৩৬-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে আটবিসকোট পৌরসভায় ৩৬ জনের এবং সানিভেরি গ্রামীণ পৌরসভায় আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম রুকুমে আহতদের সংখ্যা ৮৫ জনে পৌঁছেছে।

খবরে বলা হয়েছে, জাজারকোট জেলার ভেরি, নালগাদ, কুশে, বেরেকোট এবং চেদাগড় ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে। প্রধান জেলা কর্মকর্তা সুরেশ সুনার জানিয়েছেন, জেলার সব নিরাপত্তা বাহিনীকে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজে জড়ো করা হয়েছে।

এর আগে ২২ অক্টোবর ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঠমান্ডু উপত্যকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো কেঁপে ওঠে। তবে ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর ছিল না।

উল্লেখ্য, নেপালে ভূমিকম্প সাধারণ ঘটনা। দেশটি তিব্বতীয় এবং ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটগুলোর মিলনস্থলে অবস্থিত। প্রতি শতাব্দীতে এটি অপরের দুই মিটার কাছাকাছি অবস্থান করে, যার ফলে চাপ সৃষ্টি হয় যা ভূমিকম্প হয়। ২০১৫ সালে নেপালে একটি ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প এবং পরবর্তী ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। নেপাল বিশ্বের ১১তম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ।

আরও পড়ুন:

নেপালের ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৫০ ছাড়াল

সূত্র : এনডিটিভি, কাঠমান্ডু পোস্ট

এএমএন/০৪