ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

তিস্তার পানি সরাতে নতুন খাল খনন করছে পশ্চিমবঙ্গ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মার্চ ২০২৩ ১২২ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তিস্তার পানি আবারও প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে ভারত। শনিবার (৪ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির গজলডোবা তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের অধীনে আরো দুটি খননের কাজ শুরু করেছে দেশটি। স্থানীয় কৃষিকাজে সহায়তার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে করে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের পানি প্রবাহ আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।

তিস্তায় পানি স্বল্পতার দাবিতে সরব রয়েছে মমতা সরকার। তার এ পদক্ষেপে আবারও পানিতে ডুবতে চলেছে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি। দেশের উত্তরাঞ্চলে পানি সংকট নিরসনে প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে তিস্তার পানি দাবি করে আসছে বাংলাদেশ।

এদিকে শুক্রবার (৪ মার্চ) প্রায় ১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে রাজ্যটির সেচ বিভাগ। কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির লক্ষাধিক হেক্টর কৃষিজমি সেচের আওতায় আসবে বলে তাদের ধারণা।

২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চুক্তি বাস্তবায়নের কথা ছিল। কখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সফরসঙ্গী না হওয়া চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি।

জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিকের উপস্থিতিতে প্রায় ১ হাজার একর জমি সেচ দপ্তরকে হস্তান্তর করেন এবং তিস্তার বাম তীরে দুটি খাল তৈরি করতে প্রশাসনকে সহায়তা করবেন তিনি।

তবে কেবল তিস্তা নয়, ভুটান হয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জলঢাকা নদীর পানিও সেচের কাজে প্রত্যাহার করবে ভারত বলে জানা গেছে।

সেচ দপ্তর জানায়, তিস্তা ও জলঢাকার পানি সরবরাহ করতে গজলডোবা ব্যারেজ থেকে কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধা পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল খনন করা হবে। ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আরেকটি খাল তিস্তার বাম তীরে নির্মিত হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, খালগুলো খনন করা হলে সেখানকার প্রায় এক লাখ কৃষক এই সেচের সুবিধা পাবেন বলে মনে করছে সেচ দপ্তর।

উত্তরবঙ্গের ৯.২২ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের সুবিধা দেয়ার জন্য ১৯৭৫ সালে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, খালের মাধ্যমে তিস্তার উভয় পাড়েই সেচের জন্য এই নদীর পানি পাঠানোর। ওই অঞ্চলে প্রবাহমান অন্য নদীর পানিও যাতে সেচকাজে ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্যও ছিল।

যদিও কয়েক দশক ধরেই ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রকল্পটি। মাত্র ১.০৪ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এই পানি।

এসময় বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের বিজেপির যে বিধায়করা আছেন, তারা নিজের এলাকার মানুষদের যদি বাঁচাতে চান, তাহলে কেন্দ্রের অনুদান আনুন। আপনাকে যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাদের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা আছে।

সেচ দপ্তর সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ির ধুপগুড়ি ব্লকে তিস্তার আরেকটি খালেরও সংস্কার কাজ করা হবে। সেটি ফের সম্পূর্ণ চালু হলে ৩২ হাজার কৃষিজমিতে সেচের কাজের সুবিধা পাওয়া যাবে।

নাম না জানানোর শর্তে ওই অধ্যাপক জানান, তার সরকার এখন যেহেতু সেচ প্রকল্পে সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা নিয়েছে, স্বভাবতই এই ঘটনায় স্পষ্ট; তিস্তা থেকে আরও বেশি পানি নতুন খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হবে। এর অর্থ গ্রীষ্ম মৌসুমে তিস্তা থেকে বাংলাদেশে আরো কম পানি প্রবাহিত হবে।

গ্রীষ্মকালে এই তিস্তায় পানি থাকে ১০০ কিউমেকস (কিউবিক মিটার প্রতি সেকেন্ড)। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের কৃষিজমিতে শেষ কাজের জন্য প্রয়োজন হয় ১৬০০ কিউমেকস পানি।

এম.নাসির/৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তিস্তার পানি সরাতে নতুন খাল খনন করছে পশ্চিমবঙ্গ

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মার্চ ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তিস্তার পানি আবারও প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে ভারত। শনিবার (৪ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির গজলডোবা তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের অধীনে আরো দুটি খননের কাজ শুরু করেছে দেশটি। স্থানীয় কৃষিকাজে সহায়তার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে করে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের পানি প্রবাহ আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।

তিস্তায় পানি স্বল্পতার দাবিতে সরব রয়েছে মমতা সরকার। তার এ পদক্ষেপে আবারও পানিতে ডুবতে চলেছে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি। দেশের উত্তরাঞ্চলে পানি সংকট নিরসনে প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে তিস্তার পানি দাবি করে আসছে বাংলাদেশ।

এদিকে শুক্রবার (৪ মার্চ) প্রায় ১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে রাজ্যটির সেচ বিভাগ। কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির লক্ষাধিক হেক্টর কৃষিজমি সেচের আওতায় আসবে বলে তাদের ধারণা।

২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চুক্তি বাস্তবায়নের কথা ছিল। কখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সফরসঙ্গী না হওয়া চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি।

জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিকের উপস্থিতিতে প্রায় ১ হাজার একর জমি সেচ দপ্তরকে হস্তান্তর করেন এবং তিস্তার বাম তীরে দুটি খাল তৈরি করতে প্রশাসনকে সহায়তা করবেন তিনি।

তবে কেবল তিস্তা নয়, ভুটান হয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জলঢাকা নদীর পানিও সেচের কাজে প্রত্যাহার করবে ভারত বলে জানা গেছে।

সেচ দপ্তর জানায়, তিস্তা ও জলঢাকার পানি সরবরাহ করতে গজলডোবা ব্যারেজ থেকে কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধা পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল খনন করা হবে। ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আরেকটি খাল তিস্তার বাম তীরে নির্মিত হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, খালগুলো খনন করা হলে সেখানকার প্রায় এক লাখ কৃষক এই সেচের সুবিধা পাবেন বলে মনে করছে সেচ দপ্তর।

উত্তরবঙ্গের ৯.২২ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের সুবিধা দেয়ার জন্য ১৯৭৫ সালে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, খালের মাধ্যমে তিস্তার উভয় পাড়েই সেচের জন্য এই নদীর পানি পাঠানোর। ওই অঞ্চলে প্রবাহমান অন্য নদীর পানিও যাতে সেচকাজে ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্যও ছিল।

যদিও কয়েক দশক ধরেই ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রকল্পটি। মাত্র ১.০৪ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এই পানি।

এসময় বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের বিজেপির যে বিধায়করা আছেন, তারা নিজের এলাকার মানুষদের যদি বাঁচাতে চান, তাহলে কেন্দ্রের অনুদান আনুন। আপনাকে যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাদের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা আছে।

সেচ দপ্তর সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ির ধুপগুড়ি ব্লকে তিস্তার আরেকটি খালেরও সংস্কার কাজ করা হবে। সেটি ফের সম্পূর্ণ চালু হলে ৩২ হাজার কৃষিজমিতে সেচের কাজের সুবিধা পাওয়া যাবে।

নাম না জানানোর শর্তে ওই অধ্যাপক জানান, তার সরকার এখন যেহেতু সেচ প্রকল্পে সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা নিয়েছে, স্বভাবতই এই ঘটনায় স্পষ্ট; তিস্তা থেকে আরও বেশি পানি নতুন খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হবে। এর অর্থ গ্রীষ্ম মৌসুমে তিস্তা থেকে বাংলাদেশে আরো কম পানি প্রবাহিত হবে।

গ্রীষ্মকালে এই তিস্তায় পানি থাকে ১০০ কিউমেকস (কিউবিক মিটার প্রতি সেকেন্ড)। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের কৃষিজমিতে শেষ কাজের জন্য প্রয়োজন হয় ১৬০০ কিউমেকস পানি।

এম.নাসির/৪