ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

সংবাদ সম্মেলনে ফিলিপ লাজারিনি

গাজায় অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৩ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলায় ইতোমধ্যে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অঞ্চলটিতে ইসরাইলের আরোপিত অবরোধের পরিণতি হিসাবে মৃত্যু হবে আরও অনেকের। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউ) কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি শনিবার এ সতর্কতা জারি করেছেন। পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ইউএনআরডব্লিউর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে বসে কথা বলছি আর একই সময়ে গাজায় অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন। ইসরাইলের অবরোধের পরিণত হিসেবে আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় মৌলিক পরিষেবাগুলো ভেঙে পড়ছে। ওষুধ ফুরিয়ে যাচ্ছে। নর্দমার পানি উপচে পড়ছে রাস্তায়। স্বাস্থ্য সমস্যার হুমকিতে আছেন বাসিন্দারা। বাড়ছে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি।’ আলজাজিরা, বিবিসি।

জ্বালানি সরবরাহ না পেলে মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘অবরোধের অর্থ হলো খাদ্য, পানি, জ্বালানিসহ সব মৌলিক পণ্যের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে সম্মিলিত শাস্তি দেওয়া। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ আর ইউএনআরডব্লিউর জন্য দুঃখজনক হয়ে উঠছে প্রতিটি দিন। আমাদের সহকর্মীদের নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। আজও অন্তত ৫৭ জন সহকর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাদের শুধু একদিনে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের।’ কমিশনার জেনারেল হিসাবে সংহতি প্রকাশ, স্থানীয় সম্প্রদায় আর কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গাজা সফর করতে চান বলে জানান লাজারিনি।

গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে বলে একই দিনে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. মাই আলকাইলা। তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের দখলদার বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে, চিকিৎসাকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস করেছে, হাসপাতাল পরিচালনার প্রয়োজনীয় জ্বালানি বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকদেরও প্রবেশে বাধা দিচ্ছে তারা।’

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের ঘোষিত ‘সম্প্রসারিত স্থল অভিযানে’ শিশুরা জীবনহানি, শারীরিক ক্ষতি, গুরুতর মানসিক যন্ত্রণা ও দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেসন লি এ কথা বলেছেন। একইভাবে ইসরাইলের বোমা হামলা আর পরপর আক্রমণে ঝুঁকিতে পড়েছে গর্ভবতী নারীদের জীবন। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল অনুমান অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার গর্ভবতী নারী রয়েছেন। যাদের মধ্যে ১০ শতাংশই আগামী নভেম্বরে সন্তান প্রসব করতে পারেন। ভয়, আতঙ্ক আর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অভাবে অনেকের গর্ভপাত, অকাল প্রসব অথবা জীবন হারানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

এম.নাসির/২৯

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সংবাদ সম্মেলনে ফিলিপ লাজারিনি

গাজায় অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৩

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলায় ইতোমধ্যে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অঞ্চলটিতে ইসরাইলের আরোপিত অবরোধের পরিণতি হিসাবে মৃত্যু হবে আরও অনেকের। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউ) কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি শনিবার এ সতর্কতা জারি করেছেন। পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ইউএনআরডব্লিউর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে বসে কথা বলছি আর একই সময়ে গাজায় অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন। ইসরাইলের অবরোধের পরিণত হিসেবে আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় মৌলিক পরিষেবাগুলো ভেঙে পড়ছে। ওষুধ ফুরিয়ে যাচ্ছে। নর্দমার পানি উপচে পড়ছে রাস্তায়। স্বাস্থ্য সমস্যার হুমকিতে আছেন বাসিন্দারা। বাড়ছে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি।’ আলজাজিরা, বিবিসি।

জ্বালানি সরবরাহ না পেলে মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘অবরোধের অর্থ হলো খাদ্য, পানি, জ্বালানিসহ সব মৌলিক পণ্যের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে সম্মিলিত শাস্তি দেওয়া। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ আর ইউএনআরডব্লিউর জন্য দুঃখজনক হয়ে উঠছে প্রতিটি দিন। আমাদের সহকর্মীদের নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। আজও অন্তত ৫৭ জন সহকর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাদের শুধু একদিনে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের।’ কমিশনার জেনারেল হিসাবে সংহতি প্রকাশ, স্থানীয় সম্প্রদায় আর কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গাজা সফর করতে চান বলে জানান লাজারিনি।

গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে বলে একই দিনে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. মাই আলকাইলা। তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের দখলদার বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে, চিকিৎসাকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস করেছে, হাসপাতাল পরিচালনার প্রয়োজনীয় জ্বালানি বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকদেরও প্রবেশে বাধা দিচ্ছে তারা।’

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের ঘোষিত ‘সম্প্রসারিত স্থল অভিযানে’ শিশুরা জীবনহানি, শারীরিক ক্ষতি, গুরুতর মানসিক যন্ত্রণা ও দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেসন লি এ কথা বলেছেন। একইভাবে ইসরাইলের বোমা হামলা আর পরপর আক্রমণে ঝুঁকিতে পড়েছে গর্ভবতী নারীদের জীবন। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল অনুমান অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার গর্ভবতী নারী রয়েছেন। যাদের মধ্যে ১০ শতাংশই আগামী নভেম্বরে সন্তান প্রসব করতে পারেন। ভয়, আতঙ্ক আর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অভাবে অনেকের গর্ভপাত, অকাল প্রসব অথবা জীবন হারানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

এম.নাসির/২৯