ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

কাজাখস্তান থেকে তেল কিনলেও রাশিয়ার লাভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০২৩ ১১১ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জার্মানির এক-তৃতীয়াংশ অপেরিশোধিত তেল আসত রাশিয়া থেকে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় জার্মানি রাশিয়ার তেল আমদানি করতে পারছে না। যার জন্য জার্মানি কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।

কিন্তু জাকস্তানের তেল আনার সরাসরি কোনো পথ নেই জার্মানির। তাই বাধ্য হয়েই পাইপলাইনে কয়েক হাজার কিলোমিটার রাশিয়ার মধ্য দিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ কাজাখস্তান থেকে প্রথমে আসবে রাশিয়ায় সেখান থেকে জার্মানিতে। কাজাখস্তান থেকে আসার সময় রাশিয়ার তেলের সাথে মিশবে। এই ব্লেন্ডিং বন্ধ করা সম্ভব নয়। রাশিয়া তেল আসলে অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়া লাভবান হবে। এতে মূলত রাশিয়ার উপকার হবে।

রাশিয়ার তেল আর কিনছে পারছে না জার্মানি। তারা তেল নিচ্ছে কাজাখস্তান থেকে। তাতেও কি রাশিয়ার উপকার হবে? চলতি সপ্তাহেই দ্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে জার্মানিতে তেল পাঠাচ্ছে কাজাখস্তান।

নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আগ পর্যন্ত বার্লিসের পিসিকে শোধনাগারে শুধু রাশিয়া থেকে আসা অশোধিত তেলই পরিশোধন করা হতো।

কাজাখস্তান থেকে ২০ হাজার টন বা এক লাখ ৪৫ হাজার ব্যারেল তেল এসেছে। এভাবেই কাজাখস্তান থেকে তেল নিয়ে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে জার্মানি। কিন্তু বাস্তবে কি সেটা হচ্ছে?

রাশিয়া থেকে পাইপলাইনে তেল আনার ক্ষেত্রে ইইউয়ের কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তা সত্ত্বেও জার্মানি সিদ্ধান্ত নেয়, তারা রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে না। কাজাখস্তান এ বছর জার্মানিকে ১২ লাখ টন তেল দেবে। কাজাখস্তান আবার রাশিয়ারও বন্ধু দেশ। তাদের পাইপলাইন অপারেটর কাজট্রানসঅয়েল ইতোমধ্যেই আগামী তিন মাসে তিন লাখ টন তেল পাঠানোর জন্য রাশিয়ার সংস্থা ট্রানসনেফট-এর অনুমোদন পেয়ে গেছে।

কাজাখস্তান থেকে তেল আসছে বার্লিনের ১২০ কিলোমটার উত্তরপূর্বে পিসিকে শোধনাগারে। এই শোধনাগারটি তুলনামূলকভাবে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া এলাকায় এবং প্রচুর মানুষ এখানে কাজ করেন। বার্লিনের প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ জ্বালানি এখান থেকে যায়। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার পর এই শোধনাগারের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

ইউক্রেন যুদ্ধের আগে জার্মানির এক-তৃতীয়াংশ তেল আসত রাশিয়া থেকে। ২০২১ সালের নভেম্বরে প্রতিদিন ছয় লাখ ৮৭ হাজার ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে এসেছে। যে শোধনাগারে রাশিয়া থেকে তেল আসত বা এখন কাজাখস্তান থেকে আসবে, তা পশ্চিম জার্মানির পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাই এই শোধনাগারটি তার ক্ষমতার তুলনায় মাত্র ৬০ শতাংশ কাজ করতে পারছিল।

কাজাখস্তানের তেল আসার পর এই শোধনাগার পুরো ক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে পারবে এবং লাভজনকও হবে।

যে পাইপলাইন দিয়ে কাজাখস্তান থেকে তেল আসবে তা রাশিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছে। ফলে এখান থেকে তেল আনা হলে রাশিয়াও অর্থ পাবে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া থেকে তেল কেনার ওপর প্রচুর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দামের সীমাও বেঁধে দিয়েছে। এই অবস্থায় অর্থ তাদের কাছে খুবই জরুরি।

এই তেল রাশিয়ার মধ্যে কয়েক হাজার কিলোমিটার পাইপলাইনের মধ্যে দিয়ে আসবে। ফলে বলা যায়, রাশিয়ার সম্মতি ও ইচ্ছার ওপর এই তেলের জার্মানিতে আসা নির্ভর করছে। কিন্তু তার থেকেও বড় কথা, কাজাখস্তান থেকে তেল প্রথমে রাশিয়ায় আসবে। সেখানে রাশিয়ার তেলও তার সঙ্গে মিশবে। তারপর তা জার্মানিতে আসবে। এই ব্লেন্ডিং বন্ধ করা সম্ভব নয়।

জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার কিছু তেলও জার্মানিতে এসে পৌঁছাবে। সেটা ঠেকানো যাবে না। কিন্তু বড় কথা হলো, কোনো অর্থ সরাসরি রাশিয়াকে দেওয়া হচ্ছে না। তেল কাজাখস্তান থেকে কেনা হচ্ছে, অর্থও তারা পাচ্ছে।

এম.নাসির/২

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কাজাখস্তান থেকে তেল কিনলেও রাশিয়ার লাভ

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জার্মানির এক-তৃতীয়াংশ অপেরিশোধিত তেল আসত রাশিয়া থেকে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় জার্মানি রাশিয়ার তেল আমদানি করতে পারছে না। যার জন্য জার্মানি কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।

কিন্তু জাকস্তানের তেল আনার সরাসরি কোনো পথ নেই জার্মানির। তাই বাধ্য হয়েই পাইপলাইনে কয়েক হাজার কিলোমিটার রাশিয়ার মধ্য দিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ কাজাখস্তান থেকে প্রথমে আসবে রাশিয়ায় সেখান থেকে জার্মানিতে। কাজাখস্তান থেকে আসার সময় রাশিয়ার তেলের সাথে মিশবে। এই ব্লেন্ডিং বন্ধ করা সম্ভব নয়। রাশিয়া তেল আসলে অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়া লাভবান হবে। এতে মূলত রাশিয়ার উপকার হবে।

রাশিয়ার তেল আর কিনছে পারছে না জার্মানি। তারা তেল নিচ্ছে কাজাখস্তান থেকে। তাতেও কি রাশিয়ার উপকার হবে? চলতি সপ্তাহেই দ্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে জার্মানিতে তেল পাঠাচ্ছে কাজাখস্তান।

নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আগ পর্যন্ত বার্লিসের পিসিকে শোধনাগারে শুধু রাশিয়া থেকে আসা অশোধিত তেলই পরিশোধন করা হতো।

কাজাখস্তান থেকে ২০ হাজার টন বা এক লাখ ৪৫ হাজার ব্যারেল তেল এসেছে। এভাবেই কাজাখস্তান থেকে তেল নিয়ে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে জার্মানি। কিন্তু বাস্তবে কি সেটা হচ্ছে?

রাশিয়া থেকে পাইপলাইনে তেল আনার ক্ষেত্রে ইইউয়ের কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তা সত্ত্বেও জার্মানি সিদ্ধান্ত নেয়, তারা রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে না। কাজাখস্তান এ বছর জার্মানিকে ১২ লাখ টন তেল দেবে। কাজাখস্তান আবার রাশিয়ারও বন্ধু দেশ। তাদের পাইপলাইন অপারেটর কাজট্রানসঅয়েল ইতোমধ্যেই আগামী তিন মাসে তিন লাখ টন তেল পাঠানোর জন্য রাশিয়ার সংস্থা ট্রানসনেফট-এর অনুমোদন পেয়ে গেছে।

কাজাখস্তান থেকে তেল আসছে বার্লিনের ১২০ কিলোমটার উত্তরপূর্বে পিসিকে শোধনাগারে। এই শোধনাগারটি তুলনামূলকভাবে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া এলাকায় এবং প্রচুর মানুষ এখানে কাজ করেন। বার্লিনের প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ জ্বালানি এখান থেকে যায়। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার পর এই শোধনাগারের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

ইউক্রেন যুদ্ধের আগে জার্মানির এক-তৃতীয়াংশ তেল আসত রাশিয়া থেকে। ২০২১ সালের নভেম্বরে প্রতিদিন ছয় লাখ ৮৭ হাজার ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে এসেছে। যে শোধনাগারে রাশিয়া থেকে তেল আসত বা এখন কাজাখস্তান থেকে আসবে, তা পশ্চিম জার্মানির পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাই এই শোধনাগারটি তার ক্ষমতার তুলনায় মাত্র ৬০ শতাংশ কাজ করতে পারছিল।

কাজাখস্তানের তেল আসার পর এই শোধনাগার পুরো ক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে পারবে এবং লাভজনকও হবে।

যে পাইপলাইন দিয়ে কাজাখস্তান থেকে তেল আসবে তা রাশিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছে। ফলে এখান থেকে তেল আনা হলে রাশিয়াও অর্থ পাবে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া থেকে তেল কেনার ওপর প্রচুর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দামের সীমাও বেঁধে দিয়েছে। এই অবস্থায় অর্থ তাদের কাছে খুবই জরুরি।

এই তেল রাশিয়ার মধ্যে কয়েক হাজার কিলোমিটার পাইপলাইনের মধ্যে দিয়ে আসবে। ফলে বলা যায়, রাশিয়ার সম্মতি ও ইচ্ছার ওপর এই তেলের জার্মানিতে আসা নির্ভর করছে। কিন্তু তার থেকেও বড় কথা, কাজাখস্তান থেকে তেল প্রথমে রাশিয়ায় আসবে। সেখানে রাশিয়ার তেলও তার সঙ্গে মিশবে। তারপর তা জার্মানিতে আসবে। এই ব্লেন্ডিং বন্ধ করা সম্ভব নয়।

জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার কিছু তেলও জার্মানিতে এসে পৌঁছাবে। সেটা ঠেকানো যাবে না। কিন্তু বড় কথা হলো, কোনো অর্থ সরাসরি রাশিয়াকে দেওয়া হচ্ছে না। তেল কাজাখস্তান থেকে কেনা হচ্ছে, অর্থও তারা পাচ্ছে।

এম.নাসির/২