ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

আন্তর্জাতিক আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিশরের অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪ ২০ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Egypt’s position against Israel:

দক্ষিণ আফ্রিকা গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করেছে। এ মামলায় যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিশর।

মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১২ মে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যা, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করছে, আইসিজের অন্তর্বর্তী আদেশ অমান্য করছে। এ কারণে কায়রো আইসিজেতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।

অনেকেই বলছেন মিসরের এই ঘোষণা ১৯৭৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ক্যাম্পডেভিড শান্তি চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার আভাস!

১৯৭৯ সালে মিশরের সঙ্গে হওয়া ক্যাম্পডেভিড শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল প্রথম কোনো আরব দেশের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য তথা উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার যে দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, তার যোগসূত্র বলা হয়ে থাকে মিসরকে।

গত শুক্রবার রাফায় অভিযান বন্ধ করতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাফায় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। আইসিজের নির্দেশ মানবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রী।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলি করিম খান গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন, যার কঠোর সমালোচনা করছেন ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকেরা।

মিশর নিজেদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এমন কঠোর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো সাহিরা আমিন মনে করেন, ইসরায়েল রাফায় বড় ধরনের হামলা চালালে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের চাপে ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দিতে রাফা ক্রসিং খুলে দিতে মিসর বাধ্য হবে। তখন সীমান্ত পেরিয়ে লাখো ফিলিস্তিনি মিসরের সিনাই উপত্যাকায় আশ্রয় নিতে পারে। যদি এমন হয় তাহলে সেই ফিলিস্তিনিদের আর কখনোই গাজায় ফিরতে দেবে না ইসরায়েল। যদি এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে সেটা মিসরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এছাড়া ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সিনাই উপত্যকায় হামাসের সদস্যরা আশ্রয় নিবে। তখন সিনাই তথা মিসরের রাফা অংশ থেকে হামাস ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে। ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালালে একটা পর্যায়ে মিসর-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হবে।

মিসরের আরেকটি উদ্বেগের জায়গা হলো, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল-মিসর সীমান্তে কিছু এলাকা ‘সি’ ও ‘ডি’ হিসেবে চিহ্নিত করা আছে। চুক্তি অনুযায়ী এই এলাকাগুলোয় কোনো সামরিক উপস্থিতি ঘটাবে না দুই দেশ। আবার কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যা বা পরিমাণের বেশি সামরিক উপস্থিতি নিষিদ্ধ।

এসব এলাকায় সাময়িক বা স্থায়ী কোনো পরিবর্তন করতে চাইলে তা দুই দেশের পারস্পরিক সমন্বয়ে করতে হবে। ইসরায়েল রাফা পূর্ণমাত্রায় অভিযান চালালে চুক্তির এই বিষয়গুলো লঙ্ঘিত হবে বলে আশঙ্কা কায়রোর। তখন চুক্তি টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

এদিকে মিশর ইসরায়েলের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও নিজের অবস্থান থেকে সরছে না তেল আবিবের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গাজায় হামাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তিনি অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন। সঙ্গে রাফায়ও অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। গত ৬ মে যুদ্ধবিরতি প্রশ্নে ‘না’ বলার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

এ ক্ষেত্রে বিশ্ব জনমত, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠনসহ মিত্র দেশগুলোকে উপেক্ষা করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: আল জাজিরা

এম.নাসির/২৭

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আন্তর্জাতিক আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিশরের অবস্থান

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

Egypt’s position against Israel:

দক্ষিণ আফ্রিকা গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করেছে। এ মামলায় যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিশর।

মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১২ মে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যা, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করছে, আইসিজের অন্তর্বর্তী আদেশ অমান্য করছে। এ কারণে কায়রো আইসিজেতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।

অনেকেই বলছেন মিসরের এই ঘোষণা ১৯৭৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ক্যাম্পডেভিড শান্তি চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার আভাস!

১৯৭৯ সালে মিশরের সঙ্গে হওয়া ক্যাম্পডেভিড শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল প্রথম কোনো আরব দেশের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য তথা উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার যে দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, তার যোগসূত্র বলা হয়ে থাকে মিসরকে।

গত শুক্রবার রাফায় অভিযান বন্ধ করতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাফায় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। আইসিজের নির্দেশ মানবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রী।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলি করিম খান গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন, যার কঠোর সমালোচনা করছেন ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকেরা।

মিশর নিজেদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এমন কঠোর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো সাহিরা আমিন মনে করেন, ইসরায়েল রাফায় বড় ধরনের হামলা চালালে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের চাপে ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দিতে রাফা ক্রসিং খুলে দিতে মিসর বাধ্য হবে। তখন সীমান্ত পেরিয়ে লাখো ফিলিস্তিনি মিসরের সিনাই উপত্যাকায় আশ্রয় নিতে পারে। যদি এমন হয় তাহলে সেই ফিলিস্তিনিদের আর কখনোই গাজায় ফিরতে দেবে না ইসরায়েল। যদি এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে সেটা মিসরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এছাড়া ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সিনাই উপত্যকায় হামাসের সদস্যরা আশ্রয় নিবে। তখন সিনাই তথা মিসরের রাফা অংশ থেকে হামাস ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে। ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালালে একটা পর্যায়ে মিসর-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হবে।

মিসরের আরেকটি উদ্বেগের জায়গা হলো, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল-মিসর সীমান্তে কিছু এলাকা ‘সি’ ও ‘ডি’ হিসেবে চিহ্নিত করা আছে। চুক্তি অনুযায়ী এই এলাকাগুলোয় কোনো সামরিক উপস্থিতি ঘটাবে না দুই দেশ। আবার কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যা বা পরিমাণের বেশি সামরিক উপস্থিতি নিষিদ্ধ।

এসব এলাকায় সাময়িক বা স্থায়ী কোনো পরিবর্তন করতে চাইলে তা দুই দেশের পারস্পরিক সমন্বয়ে করতে হবে। ইসরায়েল রাফা পূর্ণমাত্রায় অভিযান চালালে চুক্তির এই বিষয়গুলো লঙ্ঘিত হবে বলে আশঙ্কা কায়রোর। তখন চুক্তি টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

এদিকে মিশর ইসরায়েলের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও নিজের অবস্থান থেকে সরছে না তেল আবিবের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গাজায় হামাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তিনি অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন। সঙ্গে রাফায়ও অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। গত ৬ মে যুদ্ধবিরতি প্রশ্নে ‘না’ বলার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

এ ক্ষেত্রে বিশ্ব জনমত, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠনসহ মিত্র দেশগুলোকে উপেক্ষা করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: আল জাজিরা

এম.নাসির/২৭