ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

নিজেকে কি সম্রাট ভাবেন এনবিআর চেয়ারম্যান : হাইকোর্ট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মার্চ ২০২৩ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) ই-অরেঞ্জের লেনদেনের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের তথ্যাদি প্রতিবেদন আকারে দাখিল না করায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘যে ব্যাখ্যা ও তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা দাখিল করতে এনবিআরের চেয়ারম্যানকে বলবেন, উনি (এনবিআর চেয়ারম্যান) কেন আদালতের আদেশ ফলো (অনুসরণ) করছেন না? কারণ কী? উনি নিজেকে কি সম্রাট ভাবেন?’

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এসব কথা বলেন। এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি জানাব।’

গত ২৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক ও বরখাস্ত হওয়া বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ই-অরেঞ্জের লেনদেনের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে এনবিআরকে পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন এবং বিএফআইইউর পক্ষে আইনজীবী শামীম খালেদ আহমেদ।

শুনানিতে একেএম আমিন উদ্দিন বলেন, ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত চলছে। গত বৃহস্পতিবার শেষ বেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাগজপত্র হাতে এসেছে, যে কারণে হলফনামা করা হয়নি। আগামী সপ্তাহে দাখিল করা যাবে। তবে পত্রিকায় এসেছে, জামিন নিয়ে ভারতের কারাগার থেকে সোহেল রানা পালিয়ে গেছেন।

ভারত থেকে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপির প্রতিবেদন একই ধরনের। তখন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম বলেন, আদেশ প্রতিপালনের জন্য সময় চাইলে আদালত সময় দিতে পারেন। কিন্তু এনবিআরের চেয়ারম্যান প্রতিবেদন দাখিল করেননি। শেখ সোহেল রানার (বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক) বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোল কিছু তথ্য জানতে চেয়েছে, যা পরে দেওয়া হয়নি বলে রাষ্ট্রপক্ষের হলফনামায় দেখা যাচ্ছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘শেখ সোহেল রানার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয়েছে, যার নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রিপোর্ট পাইনি।’

এ সময় হাইকোর্ট বলেন, ‘এনবিআরকে জানিয়েছিলেন কি?’ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বারবার অনুরোধ করা হয়েছে, গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে না। আদালত বলেন, ‘এনবিআরেরটিসহ দুটি প্রতিবেদন একসঙ্গে দেবেন।’

একপর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, এবিআরের চেয়ারম্যান কে? তখন আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম বলেন, আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এ সময় হাইকোর্ট বলেন, আমরা লাস্ট চান্স দিলাম। যে তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা দিতে এনবিআরের চেয়ারম্যানকে বলবেন। বিষয়টি ২৭ মার্চ কার্যতালিকায় আসবে।

পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার দাবি করে ৫৪৭ জন গ্রাহকের পক্ষে গত বছরের মার্চে হাইকোর্টে ৬ জন রিট দায়ের করেন। পরে ওই বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। যার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, ‘ভারতে অনুপ্রবেশের কারণে শেখ সোহেল রানা তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রেসিডেন্সি কারেকশনাল হোম আলীপুর, ভারতে আটক ছিলেন। পত্রপত্রিকার খবরে দেখেছি, জামিন নিয়ে পরে সেখান থেকে সোহেল রানা পালিয়ে গেছেন। আর বিএফআইইউর পক্ষ থেকে ই-অরেঞ্জ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা ও ব্যাংক হিসাবের নম্বর উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।’

এম.নাসির/৫

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নিজেকে কি সম্রাট ভাবেন এনবিআর চেয়ারম্যান : হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ০২:১৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মার্চ ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) ই-অরেঞ্জের লেনদেনের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের তথ্যাদি প্রতিবেদন আকারে দাখিল না করায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘যে ব্যাখ্যা ও তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা দাখিল করতে এনবিআরের চেয়ারম্যানকে বলবেন, উনি (এনবিআর চেয়ারম্যান) কেন আদালতের আদেশ ফলো (অনুসরণ) করছেন না? কারণ কী? উনি নিজেকে কি সম্রাট ভাবেন?’

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এসব কথা বলেন। এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি জানাব।’

গত ২৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক ও বরখাস্ত হওয়া বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ই-অরেঞ্জের লেনদেনের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে এনবিআরকে পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন এবং বিএফআইইউর পক্ষে আইনজীবী শামীম খালেদ আহমেদ।

শুনানিতে একেএম আমিন উদ্দিন বলেন, ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত চলছে। গত বৃহস্পতিবার শেষ বেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাগজপত্র হাতে এসেছে, যে কারণে হলফনামা করা হয়নি। আগামী সপ্তাহে দাখিল করা যাবে। তবে পত্রিকায় এসেছে, জামিন নিয়ে ভারতের কারাগার থেকে সোহেল রানা পালিয়ে গেছেন।

ভারত থেকে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপির প্রতিবেদন একই ধরনের। তখন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম বলেন, আদেশ প্রতিপালনের জন্য সময় চাইলে আদালত সময় দিতে পারেন। কিন্তু এনবিআরের চেয়ারম্যান প্রতিবেদন দাখিল করেননি। শেখ সোহেল রানার (বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক) বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোল কিছু তথ্য জানতে চেয়েছে, যা পরে দেওয়া হয়নি বলে রাষ্ট্রপক্ষের হলফনামায় দেখা যাচ্ছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘শেখ সোহেল রানার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয়েছে, যার নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রিপোর্ট পাইনি।’

এ সময় হাইকোর্ট বলেন, ‘এনবিআরকে জানিয়েছিলেন কি?’ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বারবার অনুরোধ করা হয়েছে, গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে না। আদালত বলেন, ‘এনবিআরেরটিসহ দুটি প্রতিবেদন একসঙ্গে দেবেন।’

একপর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, এবিআরের চেয়ারম্যান কে? তখন আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম বলেন, আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এ সময় হাইকোর্ট বলেন, আমরা লাস্ট চান্স দিলাম। যে তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা দিতে এনবিআরের চেয়ারম্যানকে বলবেন। বিষয়টি ২৭ মার্চ কার্যতালিকায় আসবে।

পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার দাবি করে ৫৪৭ জন গ্রাহকের পক্ষে গত বছরের মার্চে হাইকোর্টে ৬ জন রিট দায়ের করেন। পরে ওই বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। যার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, ‘ভারতে অনুপ্রবেশের কারণে শেখ সোহেল রানা তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রেসিডেন্সি কারেকশনাল হোম আলীপুর, ভারতে আটক ছিলেন। পত্রপত্রিকার খবরে দেখেছি, জামিন নিয়ে পরে সেখান থেকে সোহেল রানা পালিয়ে গেছেন। আর বিএফআইইউর পক্ষ থেকে ই-অরেঞ্জ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা ও ব্যাংক হিসাবের নম্বর উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।’

এম.নাসির/৫