ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

সাংসদ আনার হত্যা: তিন আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪ ২৫ বার পড়া হয়েছে

সাংসদ আনার হত্যা: তিন আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Anwarul Azim Anar : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিরা হলেন সৈয়দ আমানউল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল আলী সাজি ওরফে তানভীর ভূঁইয়া ও সিলিস্তি রহমান।

আট দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (৩১ মে) দুপুরে আসামিদের ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের আট দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শান্ত ইসলাম মল্লিককে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২৪ মে দুপুর আড়াইটার দিকে তিন আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এদিকে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দিলরুবা আফরোজ তিথি আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৩ মে অপহরণ মামলায় সৈয়দ আমানউল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল আলী সাজি ওরফে তানভীর ভূঁইয়া ও সিলিস্তি রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান এমপি আনার। পশ্চিমবঙ্গের বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরদিন ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে আনোয়ারুল আজিম রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন।

বাড়ি ছাড়ার পাঁচদিন পর বন্ধু গোপাল বিশ্বাস বাদী হয়ে আনোয়ারুল আজীমের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ১৮ মে বরাহনগর থানায় একটি জিডি করেন। এরপরও তিনবারের সংসদ সদস্যের খোঁজ মেলেনি। বুধবার (২২ মে) হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, আনোয়ারুল আজিমকে কলকাতার নিউটাউন এলাকায় সানজিবা গার্ডেনস নামের একটি সুউচ্চ আবাসিক ভবনের BU 56 নম্বর কক্ষে খুন করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। কিন্তু বাড়িতে লাশ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডোরীন বাদী হয়ে গত ২২ মে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে এমপির মেয়ে বলেন, গত ৯ মে রাত ৮টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউস্থ সংসদ ভবনের বাসা থেকে বাবা গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে রওনা হন। ১১ মে বিকাল ৪:৪৫ মিনিটে বাবার সাথে মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বলতে গিয়ে বাবার কথা কিছুটা বেমানান মনে হয়। এরপর বাবার মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৩ মে, আমার বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এসেছিল। বার্তায় লেখা ছিল- ‘আমি হঠাৎ দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে একজন ভিআইপি আছেন। আমি অমিত শাহের কাছে যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নেই। আমি তোমাকে পরে ডাকব.’

আরও কিছু মেসেজ আসে। বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা মেসেজ পাঠিয়ে থাকতে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় বাবাকে খুঁজতে থাকি। আমার বাবার কোনো সন্ধান না পেয়ে আমার বাবার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস কলকাতার বরাহনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বাবার খোঁজ চালিয়ে যাই। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাবাকে অপহরণ করেছে। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও বাবাকে পেলাম না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাংসদ আনার হত্যা: তিন আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৮:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪

Anwarul Azim Anar : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিরা হলেন সৈয়দ আমানউল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল আলী সাজি ওরফে তানভীর ভূঁইয়া ও সিলিস্তি রহমান।

আট দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (৩১ মে) দুপুরে আসামিদের ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের আট দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শান্ত ইসলাম মল্লিককে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২৪ মে দুপুর আড়াইটার দিকে তিন আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এদিকে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দিলরুবা আফরোজ তিথি আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৩ মে অপহরণ মামলায় সৈয়দ আমানউল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল আলী সাজি ওরফে তানভীর ভূঁইয়া ও সিলিস্তি রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান এমপি আনার। পশ্চিমবঙ্গের বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরদিন ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে আনোয়ারুল আজিম রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন।

বাড়ি ছাড়ার পাঁচদিন পর বন্ধু গোপাল বিশ্বাস বাদী হয়ে আনোয়ারুল আজীমের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ১৮ মে বরাহনগর থানায় একটি জিডি করেন। এরপরও তিনবারের সংসদ সদস্যের খোঁজ মেলেনি। বুধবার (২২ মে) হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, আনোয়ারুল আজিমকে কলকাতার নিউটাউন এলাকায় সানজিবা গার্ডেনস নামের একটি সুউচ্চ আবাসিক ভবনের BU 56 নম্বর কক্ষে খুন করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। কিন্তু বাড়িতে লাশ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডোরীন বাদী হয়ে গত ২২ মে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে এমপির মেয়ে বলেন, গত ৯ মে রাত ৮টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউস্থ সংসদ ভবনের বাসা থেকে বাবা গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে রওনা হন। ১১ মে বিকাল ৪:৪৫ মিনিটে বাবার সাথে মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বলতে গিয়ে বাবার কথা কিছুটা বেমানান মনে হয়। এরপর বাবার মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৩ মে, আমার বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এসেছিল। বার্তায় লেখা ছিল- ‘আমি হঠাৎ দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে একজন ভিআইপি আছেন। আমি অমিত শাহের কাছে যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নেই। আমি তোমাকে পরে ডাকব.’

আরও কিছু মেসেজ আসে। বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা মেসেজ পাঠিয়ে থাকতে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় বাবাকে খুঁজতে থাকি। আমার বাবার কোনো সন্ধান না পেয়ে আমার বাবার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস কলকাতার বরাহনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বাবার খোঁজ চালিয়ে যাই। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাবাকে অপহরণ করেছে। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও বাবাকে পেলাম না।