ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

রাজশাহীতে গোলাম আরিফ টিপুর মরদেহে শ্রদ্ধা

রাজশাহী প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Rajsahai:

রাজশাহীতে ফুলে ফুলে ভাষা সৈনিক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৬ মার্চ) সকালে তার মরদেহ রাজশাহী কলেজের শহীদ মিনারের সামনে এনে রাখা হয়। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।

গোলাম আরিফ টিপু রাজশাহী কলেজের ছাত্র ছিলেন। এখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক এবং আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। রাজশাহী কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় এই শহরে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রফিক, জব্বার, সালামেরা শহীদ হলে ওই রাতেই রাজশাহী কলেজে প্রথম শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের সময়ও ছিলেন গোলাম আরিফ টিপু। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের জন্য রাজশাহীতে গঠন করা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

এই ভাষা সংগ্রামী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি রাজশাহীর আদালতে আইন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। তাই তার মরদেহ আনা হয়েছিল রাজশাহীতে। বেলা সাড়ে ১১টায় প্রথমে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আবদুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সালিম উদ্দিন আহমেদ শিমুল, ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জানাজার আগে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও গোলাম আরিফ টিপুর ছোট মেয়ে ডানা নাজলীন।

মেয়র বলেন, গোলাম আরিফ টিপু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাষা আন্দোলন করেছেন, রাজশাহীতে দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে দিনের পর দিন অবিচল থেকে সাহসিকতার সাথে কাজ করে গেছেন। তিনি শুধু রাজশাহীর নয়, সারাদেশের সম্পদ। তার মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টায় গোলাম আরিফ টিপুর জন্মস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন ও পুলিশ সুপার মো. ছায়দুল হাসান তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

দেশের প্রথিতযশা এই আইনজীবী ১৯৩১ সালের ২৮ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কমলাকান্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী ও ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে তিনি ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত রাজশাহীতে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পরে তিনি ঢাকায় স্থায়ী হন। ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার মরদেহ দাফনের কথা রয়েছে।

/শিল্পী/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাজশাহীতে গোলাম আরিফ টিপুর মরদেহে শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪

Rajsahai:

রাজশাহীতে ফুলে ফুলে ভাষা সৈনিক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৬ মার্চ) সকালে তার মরদেহ রাজশাহী কলেজের শহীদ মিনারের সামনে এনে রাখা হয়। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।

গোলাম আরিফ টিপু রাজশাহী কলেজের ছাত্র ছিলেন। এখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক এবং আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। রাজশাহী কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় এই শহরে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রফিক, জব্বার, সালামেরা শহীদ হলে ওই রাতেই রাজশাহী কলেজে প্রথম শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের সময়ও ছিলেন গোলাম আরিফ টিপু। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের জন্য রাজশাহীতে গঠন করা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

এই ভাষা সংগ্রামী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি রাজশাহীর আদালতে আইন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। তাই তার মরদেহ আনা হয়েছিল রাজশাহীতে। বেলা সাড়ে ১১টায় প্রথমে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আবদুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সালিম উদ্দিন আহমেদ শিমুল, ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জানাজার আগে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও গোলাম আরিফ টিপুর ছোট মেয়ে ডানা নাজলীন।

মেয়র বলেন, গোলাম আরিফ টিপু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাষা আন্দোলন করেছেন, রাজশাহীতে দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে দিনের পর দিন অবিচল থেকে সাহসিকতার সাথে কাজ করে গেছেন। তিনি শুধু রাজশাহীর নয়, সারাদেশের সম্পদ। তার মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টায় গোলাম আরিফ টিপুর জন্মস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন ও পুলিশ সুপার মো. ছায়দুল হাসান তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

দেশের প্রথিতযশা এই আইনজীবী ১৯৩১ সালের ২৮ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কমলাকান্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী ও ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে তিনি ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত রাজশাহীতে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পরে তিনি ঢাকায় স্থায়ী হন। ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার মরদেহ দাফনের কথা রয়েছে।

/শিল্পী/