ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪

বই মেলা-২০২৪: প্রাঙ্গণের খোঁজ খবর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪ ২৮০ বার পড়া হয়েছে

বই মেলা-২০২৪ প্রাঙ্গণের খোঁজ খবর

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Book fair : শুরু হয়েছে মাসব্যাপী আয়োজিত বাঙ্গালীর প্রাণের বই মেলা-২০২৪। ক্ষণ গণনা শেষ হয়েছে। লাখো মানুষের ভালোবাসার মেলায়, এবারো থাকবে নানা বয়সী এবং বিভিন্ন বিষয়ের উপর খ্যাতিমান লেখকদের বই। পাশাপাশি নবীন লেখকদের বইও থাকবে পাঠকের চাহিদায়। আর বছরজুড়ে অপেক্ষায় থাকা কবি-সাহিত্যিক, লেখক-সাংবাদিক ও বই প্রেমিদের নজর এখন মেলা প্রাঙ্গণের স্টলে। অপরদিকে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ‍প্রকাশক ও মেলা সংশ্লিষ্টরা। এবার লেখকদের স্বপ্ন পুরণের পালা। কখন পাঠকপ্রিয়তা পাবে কবিতা অথবা বই, এমন ভাবনায় উদগ্রিব তারা। এমন কিছু কবি-সাহিত্যিকদের কবিতা, গল্প ও উপন্যাস বিষয়ে, নিয়মিত উপস্থাপনার সঙ্গে রয়েছেন-আবদুর রহমান খান।

এবারের পরিচয়ে থাকছে, কবি ও লেখক ওয়াজেদা পারভীন পপি। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আইটি সেক্টরে কাজ শেষে, লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “অক্ষত ভালোবাসা” প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। এছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে ২টি উপন্যাস ‘রূপকথার কল্পরাজ্য’ ও ‘রূপকথার যাদুর পাটি’। অপরদিকে, এবারের একুশে বইমেলায় বের হচ্ছে তার ২টি বই, “অনন্ত অভিলাষ” ও “সমর্পন”। বইগুলো পাওয়া যাবে অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনীর-৯৩ নম্বর স্টলে। আজ ছাপা হলো, ‘অক্ষত ভালোবাসা’ কাব্য গ্রন্থের একটি কবিতা-

বিনোদিনী

– ওয়াজেদা পারভীন পপি
<><><><><><><><><><><><>

আমি তোমার হৃদয় বিনোদিনী
আমি তমিস্রাতে প্রমোদ ছড়ায়ে
পূর্ণ হুতাশন জ্বালানো সীমন্তনী।

আমার সম্পূর্ণ অবয়ব অতুল অন্তরীক্ষ
এখানে আছে মেঘ, বৃষ্টি, তারা, রংধনু,
গ্রহ, নক্ষত্র, পবন, রজনীকান্ত, মার্তন্ড।

তোমার হৃদয় জমিন উত্তপ্ত মরুভুমি
অভিমানে পুঞ্জিভূত ঘন মেঘ জমেছে
পুলকিত বরষায় ভিজিয়ে দিবো আমি।

আঁধারে ঢাকা পরেছে জমিনের সৈন্দর্য্য
দীর্ঘদিনের কালীমা লেপ্টে হয়েছে ঘনিভুত
আমার রংধনুতে আবার দীপ্তী ছড়াবে ঐশ্বর্য্য।

কি ভেবেছো? আর হবেনা তুমি ভূপতি?
আমার আঁকাশের সৈনিকরা তৈরী
অভিনব উদ্যমে বিনোদিত করতে মৃত্যু অবধী।

আমি তোমার হৃদয় বিনোদিনী
আমি তমিস্রাতে প্রমোদ ছড়ায়ে
পূর্ণ হুতাশন জ্বালানো সীমন্তনী।

গতকাল মেলা প্রাঙ্গণে কবির সাথে পাঠক ও ভক্তদের ফটোসেশন।
– গতকাল মেলা প্রাঙ্গণে কবির সাথে পাঠক ও ভক্তদের ফটোসেশন।

মেলা প্রাঙ্গনে ‘অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনীর স্টলে কবি বলেন, ‘প্রবীণ লেখকদের ভিড়ে নবীন লেখকদের বইগুলো অনেক সময়ই নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে না। নতুন লেখকদের মধ্যেও অনেকেই প্রতিভাবান এবং তাদের লেখা অনেক সময়ই আমাদেরকে নতুন অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতি দিতে পারে।

সঠিক মূল্যায়ণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তরুণ লেখকরাই হয়তো ভবিষ্যতে অনেক বড় লেখক-নাট্যকার ও বড় স্ক্রিপ্ট রাইটার হবেন। তাই প্রতিবার বই মেলায় অন্তত দু’জন নতুন লেখকের বই কিনুন। এ ছাড়া যারা আগে থেকে লেখালেখির সাথে যুক্ত, তাদেরও দ্বায়িত্ব রয়েছে নতুন লেখকদের প্রমোট করা’।

কবি পরিচিতি: ওয়াজেদা পারভীন পপি’র জন্ম ১৯৭৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর, জামালপুরের সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের এক সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারে। পিতা-মো. আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া এবং মা সুফিয়া খাতুন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে খুব আদরে প্রাকৃতিক আভায় বেড়ে ওঠেন। তিনি শিক্ষায় দর্শন বিষয় নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন।

জানা গেছে, কলেজ জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু। চাকরি করেছেন সুদীর্ঘ ১৮ বছর আইটি সেক্টরে। চাকরি ছাড়ার পর লেখালেখি শুরু করেন। সৃজনশীল লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এ তার প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ ‘অক্ষত ভালোবাসা’ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি শুরুতেই ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। পরবর্তীতে নিরেট বাংলার এই প্রকৃতির দৃশ্যপট থেকে পাওয়া প্রতিচ্ছবিকে জীবনবোধের শাশ্বত দৃষ্টিভঙ্গি, প্রেম এবং প্রেমের পরতে জড়ানো, জটিল প্রসঙ্গগুলোর সাথে নিজের ভাষায় আরো ২টি উপন্যাস ‘রূপকথার কল্পরাজ্য’, ‘রূপকথার যাদুর পার্টি’ এবং কাব্যগ্রন্থ ‘অনন্ত অভিলাষ প্রকাশ করেন।

আর ‘সমর্পণ’ কাব্যগ্রন্থটিতেও নিংড়ানো হৃদয়ের স্পর্শকাতর বিষয় সমৃদ্ধ এক ব্যতিক্রম সৃষ্টি, যা পাঠকের হৃদয়ের কাব্যরস রোমন্থন করার চেষ্টা করেছেন। এখানে কবি তার নিজস্ব ঢঙে যে জীবনে সূক্ষ্মবোধ, হৃদয়ের গহিনে সুপ্ত হয়ে থাকা স্বপ্নগুলোকে যেভাবে বিধৃত করেছেন তা পাঠকপ্রিয়তা লাভের দাবিদার। বইয়ের প্রতিটা পাতায় লেখকের নিজস্ব ধাঁচের উপমা, শব্দচয়ন, বোধের বিন্যাস সত্যিই প্রশংসনীয়।

———————-

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বই মেলা-২০২৪: প্রাঙ্গণের খোঁজ খবর

আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

Book fair : শুরু হয়েছে মাসব্যাপী আয়োজিত বাঙ্গালীর প্রাণের বই মেলা-২০২৪। ক্ষণ গণনা শেষ হয়েছে। লাখো মানুষের ভালোবাসার মেলায়, এবারো থাকবে নানা বয়সী এবং বিভিন্ন বিষয়ের উপর খ্যাতিমান লেখকদের বই। পাশাপাশি নবীন লেখকদের বইও থাকবে পাঠকের চাহিদায়। আর বছরজুড়ে অপেক্ষায় থাকা কবি-সাহিত্যিক, লেখক-সাংবাদিক ও বই প্রেমিদের নজর এখন মেলা প্রাঙ্গণের স্টলে। অপরদিকে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ‍প্রকাশক ও মেলা সংশ্লিষ্টরা। এবার লেখকদের স্বপ্ন পুরণের পালা। কখন পাঠকপ্রিয়তা পাবে কবিতা অথবা বই, এমন ভাবনায় উদগ্রিব তারা। এমন কিছু কবি-সাহিত্যিকদের কবিতা, গল্প ও উপন্যাস বিষয়ে, নিয়মিত উপস্থাপনার সঙ্গে রয়েছেন-আবদুর রহমান খান।

এবারের পরিচয়ে থাকছে, কবি ও লেখক ওয়াজেদা পারভীন পপি। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আইটি সেক্টরে কাজ শেষে, লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “অক্ষত ভালোবাসা” প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। এছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে ২টি উপন্যাস ‘রূপকথার কল্পরাজ্য’ ও ‘রূপকথার যাদুর পাটি’। অপরদিকে, এবারের একুশে বইমেলায় বের হচ্ছে তার ২টি বই, “অনন্ত অভিলাষ” ও “সমর্পন”। বইগুলো পাওয়া যাবে অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনীর-৯৩ নম্বর স্টলে। আজ ছাপা হলো, ‘অক্ষত ভালোবাসা’ কাব্য গ্রন্থের একটি কবিতা-

বিনোদিনী

– ওয়াজেদা পারভীন পপি
<><><><><><><><><><><><>

আমি তোমার হৃদয় বিনোদিনী
আমি তমিস্রাতে প্রমোদ ছড়ায়ে
পূর্ণ হুতাশন জ্বালানো সীমন্তনী।

আমার সম্পূর্ণ অবয়ব অতুল অন্তরীক্ষ
এখানে আছে মেঘ, বৃষ্টি, তারা, রংধনু,
গ্রহ, নক্ষত্র, পবন, রজনীকান্ত, মার্তন্ড।

তোমার হৃদয় জমিন উত্তপ্ত মরুভুমি
অভিমানে পুঞ্জিভূত ঘন মেঘ জমেছে
পুলকিত বরষায় ভিজিয়ে দিবো আমি।

আঁধারে ঢাকা পরেছে জমিনের সৈন্দর্য্য
দীর্ঘদিনের কালীমা লেপ্টে হয়েছে ঘনিভুত
আমার রংধনুতে আবার দীপ্তী ছড়াবে ঐশ্বর্য্য।

কি ভেবেছো? আর হবেনা তুমি ভূপতি?
আমার আঁকাশের সৈনিকরা তৈরী
অভিনব উদ্যমে বিনোদিত করতে মৃত্যু অবধী।

আমি তোমার হৃদয় বিনোদিনী
আমি তমিস্রাতে প্রমোদ ছড়ায়ে
পূর্ণ হুতাশন জ্বালানো সীমন্তনী।

গতকাল মেলা প্রাঙ্গণে কবির সাথে পাঠক ও ভক্তদের ফটোসেশন।
– গতকাল মেলা প্রাঙ্গণে কবির সাথে পাঠক ও ভক্তদের ফটোসেশন।

মেলা প্রাঙ্গনে ‘অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনীর স্টলে কবি বলেন, ‘প্রবীণ লেখকদের ভিড়ে নবীন লেখকদের বইগুলো অনেক সময়ই নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে না। নতুন লেখকদের মধ্যেও অনেকেই প্রতিভাবান এবং তাদের লেখা অনেক সময়ই আমাদেরকে নতুন অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতি দিতে পারে।

সঠিক মূল্যায়ণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তরুণ লেখকরাই হয়তো ভবিষ্যতে অনেক বড় লেখক-নাট্যকার ও বড় স্ক্রিপ্ট রাইটার হবেন। তাই প্রতিবার বই মেলায় অন্তত দু’জন নতুন লেখকের বই কিনুন। এ ছাড়া যারা আগে থেকে লেখালেখির সাথে যুক্ত, তাদেরও দ্বায়িত্ব রয়েছে নতুন লেখকদের প্রমোট করা’।

কবি পরিচিতি: ওয়াজেদা পারভীন পপি’র জন্ম ১৯৭৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর, জামালপুরের সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের এক সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারে। পিতা-মো. আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া এবং মা সুফিয়া খাতুন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে খুব আদরে প্রাকৃতিক আভায় বেড়ে ওঠেন। তিনি শিক্ষায় দর্শন বিষয় নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন।

জানা গেছে, কলেজ জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু। চাকরি করেছেন সুদীর্ঘ ১৮ বছর আইটি সেক্টরে। চাকরি ছাড়ার পর লেখালেখি শুরু করেন। সৃজনশীল লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এ তার প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ ‘অক্ষত ভালোবাসা’ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি শুরুতেই ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। পরবর্তীতে নিরেট বাংলার এই প্রকৃতির দৃশ্যপট থেকে পাওয়া প্রতিচ্ছবিকে জীবনবোধের শাশ্বত দৃষ্টিভঙ্গি, প্রেম এবং প্রেমের পরতে জড়ানো, জটিল প্রসঙ্গগুলোর সাথে নিজের ভাষায় আরো ২টি উপন্যাস ‘রূপকথার কল্পরাজ্য’, ‘রূপকথার যাদুর পার্টি’ এবং কাব্যগ্রন্থ ‘অনন্ত অভিলাষ প্রকাশ করেন।

আর ‘সমর্পণ’ কাব্যগ্রন্থটিতেও নিংড়ানো হৃদয়ের স্পর্শকাতর বিষয় সমৃদ্ধ এক ব্যতিক্রম সৃষ্টি, যা পাঠকের হৃদয়ের কাব্যরস রোমন্থন করার চেষ্টা করেছেন। এখানে কবি তার নিজস্ব ঢঙে যে জীবনে সূক্ষ্মবোধ, হৃদয়ের গহিনে সুপ্ত হয়ে থাকা স্বপ্নগুলোকে যেভাবে বিধৃত করেছেন তা পাঠকপ্রিয়তা লাভের দাবিদার। বইয়ের প্রতিটা পাতায় লেখকের নিজস্ব ধাঁচের উপমা, শব্দচয়ন, বোধের বিন্যাস সত্যিই প্রশংসনীয়।

———————-