ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

দেশে মোটরসাইকেল চলাচলের নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মার্চ ২০২৩ ১৭৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহাসড়ক ও শহরের রাস্তায় গত কয়েক বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা দ্রুত বাড়ার কারণে মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। বিষয়টি এখনও খসড়ার পর্যায়ে থাকলেও দ্রুতই এটা অনুমোদন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নীতিমালা করে কোনো লাভ নেই। নীতিমালার বাস্তবায়ন হবে কীভাবে? ট্রাফিক পুলিশের কাছে কী ওই ধরনের কোনো মেকানিজম আছে? নেই। তাহলে পুলিশ ইচ্ছেমতো মোটরসাইকেল আটকাবে আর জরিমানা আদায় করবে। এতে স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যবস্থাই ভেঙে যাবে। এতে তো দুর্ঘটনা বাড়বে। খসড়া এই নীতিমালাটি পত্রিকায় যেভাবে এসেছে তা যদি হয়, তাহলে এটি দূরদর্শী চিন্তা থেকে করা হয়নি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনিসুর রহমানের নেতৃত্বাধীন নয় সদস্যের কমিটি এই খসড়া তৈরি করেছে। কমিটিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

খসড়া নীতিমালায় তিনটি উদ্দেশ্যের কথা রয়েছে, প্রথমত, মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, মোটরসাইকেলের নিরাপদ ব্যবহার ও অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।

এখন যে আলোচনাগুলো হচ্ছে, সেগুলো কী কমিটির সদস্যরা ভেবেছিলেন? জানতে চাইলে কমিটির সদস্য বিআরটিএ’র পরিচালক (রোড সেফটি) মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, এখানে নয় সদস্যের কমিটি কাজ করেছে। সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আর এটা এখনও খসড়া পর্যায়ে আছে। কমিটির কাজ একটা খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া। আমরা সেটা করেছি। এখন মন্ত্রণালয় এটা বিবেচনা করে দেখবে, যে আলোচনাগুলো হচ্ছে সেটা সঠিক কিনা? যদি কোনো পরিবর্তন করতে হয়, সেটাও মন্ত্রণালয় থেকে বিবেচনা করবে। আমরা তো জমা দিয়ে দিয়েছি।

জানা গেছে, বিশ্বে স্পোর্টি ও স্কুটি এই দুই ধরনের মোটরসাইকেল বেশি চলাচল করে। বাংলাদেশে বিক্রয়, বিপণন ও সড়কে চলাচলকারী প্রায় সব মোটরসাইকেলই স্পোর্টি শ্রেণির, যা অপেক্ষাকৃত দুর্ঘটনাপ্রবণ। অন্যদিকে স্কুটি মোটরসাইকেল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। এ জন্য নীতিমালায় স্কুটি মোটরসাইকেলের প্রসার এবং স্পোর্টির ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, স্পোর্টি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিসম্পন্ন। এই গতির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার জন্য এসব মোটরসাইকেলের বসার আসন কিছুটা কৌণিকভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, পেছনের দিকটা উঁচু। অন্যদিকে স্কুটি মোটরসাইকেল আরামদায়ক, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও অপেক্ষাকৃত কম গতিসম্পন্ন। এসব মোটরসাইকেলের বসার আসন সাধারণত ভূমির সমান্তরাল হয়। সব মিলিয়ে এগুলো সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দূরের পথে মহাসড়কসহ সর্বত্র মোটরসাইকেলের চলাচল দেখা যায়। বিশেষ করে উৎসবের সময় মোটরসাইকেলের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বিপুল প্রাণহানি ঘটছে। এ জন্য মোটরসাইকেলের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

রইস/৮

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দেশে মোটরসাইকেল চলাচলের নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১০:২৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মার্চ ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহাসড়ক ও শহরের রাস্তায় গত কয়েক বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা দ্রুত বাড়ার কারণে মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। বিষয়টি এখনও খসড়ার পর্যায়ে থাকলেও দ্রুতই এটা অনুমোদন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নীতিমালা করে কোনো লাভ নেই। নীতিমালার বাস্তবায়ন হবে কীভাবে? ট্রাফিক পুলিশের কাছে কী ওই ধরনের কোনো মেকানিজম আছে? নেই। তাহলে পুলিশ ইচ্ছেমতো মোটরসাইকেল আটকাবে আর জরিমানা আদায় করবে। এতে স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যবস্থাই ভেঙে যাবে। এতে তো দুর্ঘটনা বাড়বে। খসড়া এই নীতিমালাটি পত্রিকায় যেভাবে এসেছে তা যদি হয়, তাহলে এটি দূরদর্শী চিন্তা থেকে করা হয়নি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনিসুর রহমানের নেতৃত্বাধীন নয় সদস্যের কমিটি এই খসড়া তৈরি করেছে। কমিটিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

খসড়া নীতিমালায় তিনটি উদ্দেশ্যের কথা রয়েছে, প্রথমত, মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, মোটরসাইকেলের নিরাপদ ব্যবহার ও অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।

এখন যে আলোচনাগুলো হচ্ছে, সেগুলো কী কমিটির সদস্যরা ভেবেছিলেন? জানতে চাইলে কমিটির সদস্য বিআরটিএ’র পরিচালক (রোড সেফটি) মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, এখানে নয় সদস্যের কমিটি কাজ করেছে। সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আর এটা এখনও খসড়া পর্যায়ে আছে। কমিটির কাজ একটা খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া। আমরা সেটা করেছি। এখন মন্ত্রণালয় এটা বিবেচনা করে দেখবে, যে আলোচনাগুলো হচ্ছে সেটা সঠিক কিনা? যদি কোনো পরিবর্তন করতে হয়, সেটাও মন্ত্রণালয় থেকে বিবেচনা করবে। আমরা তো জমা দিয়ে দিয়েছি।

জানা গেছে, বিশ্বে স্পোর্টি ও স্কুটি এই দুই ধরনের মোটরসাইকেল বেশি চলাচল করে। বাংলাদেশে বিক্রয়, বিপণন ও সড়কে চলাচলকারী প্রায় সব মোটরসাইকেলই স্পোর্টি শ্রেণির, যা অপেক্ষাকৃত দুর্ঘটনাপ্রবণ। অন্যদিকে স্কুটি মোটরসাইকেল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। এ জন্য নীতিমালায় স্কুটি মোটরসাইকেলের প্রসার এবং স্পোর্টির ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, স্পোর্টি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিসম্পন্ন। এই গতির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার জন্য এসব মোটরসাইকেলের বসার আসন কিছুটা কৌণিকভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, পেছনের দিকটা উঁচু। অন্যদিকে স্কুটি মোটরসাইকেল আরামদায়ক, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও অপেক্ষাকৃত কম গতিসম্পন্ন। এসব মোটরসাইকেলের বসার আসন সাধারণত ভূমির সমান্তরাল হয়। সব মিলিয়ে এগুলো সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দূরের পথে মহাসড়কসহ সর্বত্র মোটরসাইকেলের চলাচল দেখা যায়। বিশেষ করে উৎসবের সময় মোটরসাইকেলের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বিপুল প্রাণহানি ঘটছে। এ জন্য মোটরসাইকেলের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

রইস/৮